"আত্মশুদ্ধির মাস মাহে রমজান"
বছর ঘুরে আসা এই রমজান মাস প্রত্যেক মুসলিমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৷ এই মহিমান্বিত মাসের লাইলাতুল কদর রজনীতে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন নাজিল করা হয় যা মানবজাতীর জন্য হেদায়াতস্বরূপ ৷ পথহারা পথিকের জন্য, হতাশার জালে বন্ধি থাকা ব্যক্তির মুক্তির জন্য এই মাস হল একটি নেয়ামত ৷ জীবন পরিবর্তনের এক বিশেষ প্রশিক্ষনের মাস ৷ তাকওয়া অর্জনের মাস ৷ একটি দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিলে সুন্দর জীবন উপহার দিতে পারে এই রমজান মাস ৷
প্রতিটি মুহূর্তে ঘটে যাচ্ছে কত হৃদয়বিদারী ঘটনা ৷ এই যে হাসি মুখে কথা বলতে না বলতেই মাটিতে লুটিয়ে পড়ছে কত প্রাণ! জুয়ার আসরেও দেখা যাচ্ছে নাচ আর গাইতে-গাইতে মৃত্যুর কূপে ঢলে পড়তে ৷ কত এক্সিডেন্ট! কত আহাজারি! কতই না মোহনীয় এই দুনিয়া! অতচ, সেকেন্ডেরও বিশ্বাস নেই ৷ তাই পরকালকে ভুলে থাকার কোনো অর্থ নেই ৷ লালসাপূর্ণ ফেতনার এই দুনিয়ায় যদি সেকেন্ডেরও বিশ্বাস না থাকে, তাহলে এর জন্য এত মায়ার কি দরকার! পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, 'মানুষের জন্য সুশোভিত করা হয়েছে প্রবৃত্তির ভালবাসা- নারী, সন্তানাদি, রাশি রাশি সোনা-রূপা, চিহ্নত ঘোড়া, গবাদি পশু ও শস্যক্ষেত ৷ এগুলো দুনিয়ার জীবনের ভোগসামগ্রী ৷ আর আল্লাহ, তাঁর নিকট রয়েছে উত্তম প্রত্যাবর্তনস্থল ৷ (সূরা-ইমরান, আয়াত : ১৪) অত্র আয়াত দ্বারা এটাই প্রতিয়মান হয় যে, প্রবৃত্তিকারী দুনিয়ার সব সৃষ্টি হল জীবনের ভোগসামগ্রী মাত্র ৷ যতক্ষণ দেহে প্রাণ থাকবে, ততক্ষণ এই সামগ্রীগুলো উপভোগ করা যায় ৷ কিন্তু, মৃত্যুর তো কোনো নিশ্চয়তা নেই ৷ মালাকুল মাওত উপস্থিত হলেই আর কোনো সময় দেওয়া হয় না ৷ মুহূর্তেই পাড়ি জমাতে হবে পর পারে ৷ তাই, এই দুনিয়ার মোহে নিজেদের জীবনকে বিলিয়ে দিয়ে পরকালের অন্তিম সুখকে বিসর্জন দেওয়া কখনোই সমীচীন নয় ৷
সুতরাং, একটু ভাবুন না ! প্রকাশ্যে এবং অপ্রকাশ্যে কত অন্যায়, কত পাপ করেছেন ! কত মানুষের অশ্রু নিজের হাত দ্বারা ঝরালেন ! চোখের প্রতি কত যুলুম করেছেন ! জিহ্বা দ্বারা কত মিথ্যা কথা ও সাক্ষ্য দিয়েছেন ! পা দ্বার কত অন্যায় কাজে এগিয়ে গেলেন ! ওমর ফারুক(রা.) বলেছেন, 'মৃত্যুর আগে একবার মৃত্যু বরণ করে দেখো ৷'
অতএব, দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে রবের দিকে ফিরে আসতে একটি দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিন আর পরিবর্তনের জন্য রমজানের এই দীর্ঘ সময়কে প্রশিক্ষনের কেন্দ্র হিসেবে পরিণত করুন ৷ সুন্দর জীবন গঠনের জন্য কিছু ধাপ মেনে চললে ভালো ফলাফলের আশা রাখতে পারেন, ইনশা'আল্লাহ! যেমন: প্রাথমিকভাবে নিয়ত করুন যে, অন্তত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মসজিদে গিয়ে আদায় করতে ৷ বিশেষ করে রমজানের রোজাগুলো রাখার চেষ্টা করুন ৷ কুরআন পড়তে পারেন কিংবা না পারেন, অন্তত যে সূরাগুলো জানেন সেগুলো বেশি বেশি পড়ার চেষ্টা করুন ৷ যদি কোনো অবৈধ সম্পর্ক থাকে, তাহলে সিদ্ধা নিন ধীরে ধীরে কথা বলা কমিয়ে নিতে এবং কৌশল অবলম্বনে তা মেনে চললে অবশ্যই মাস শেষ হতেই ভালো ফলাফলের দেখা পাবেন, ইনশা'আল্লাহ! আর সামর্থ্যের মধ্যে যতটুকু পারেন দান করার চেষ্টা করুন ৷ এতে আল্লাহ তা'য়ালা খুশি হন ও বান্দার গুনাহ মাপ করে দেন ৷ ভালো বন্ধুর সাথে মিশতে চেষ্টা করুন যারা আপনাকে জান্নাতের দিকে নিয়ে যাবে ৷ কিছু ইসলামী বই পড়ার চেষ্টা করুন ৷ এতে জীবনের সংশোধনীগুলো শিখতে পারবেন ৷ সরাসরি কিংবা ফোনে কুরআন তিলাওয়াত শুনার চেষ্টা করুন ৷ কেননা কুরআনের সুর অন্তরে প্রশান্তি সৃষ্টি করে ৷ গান বাঁজনা পরিহার করুন ৷ কেননা তা আল্লাহর কাছ থেকে দূরে সরিয়ে নেই ৷ অর্থাৎ, আল্লাহর নৈকট্য লাভে যা যা ভালো কিছু রয়েছে সামর্থ্যের ভিতরে সেগুলো পালন করাই হল জীবন পরিবর্তনের নিয়ম ৷ মনে রাখতে হবে, শয়তান সবসময় ধোঁকা দিতে চেষ্টা করবে ৷ তাই, কখনো যদি পাপ কাজে লিপ্ত হন, তবুও গাফেল হওয়া যাবে না ৷ বরং, ইবাদতের মাত্রা আরো দিগুন করে দিতে হবে ৷ দেখবেন, শয়তান পরাজিত হবে ৷ সবসময় তাওবার দরজা খোলা রয়েছে ৷ আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল ও দয়ালু ৷ অতএব, আল্লাহর নিকট তাওবা করুন ও সাহায্য প্রার্থনা করুন যেন দ্বীনের উপর অবিচল থাকতে পারেন ৷ নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমা করে দিবেন ও সাহায্য করবেন ৷ আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, 'আর তুমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও ৷ নিশ্চয় আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু ৷' (সূরা-নিসা, আয়াত : ১০৬) তিনি আরো বলেন, 'আর যে ব্যক্তি মন্দ কাজ করবে কিংবা নিজের প্রতি যুলম করবে তারপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে, সে আল্লাহকে পাবে ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু ৷' (সূরা-নিসা, আয়াত : ১১০)
আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের সবাইকে সংশোধন হওয়ার এবং দ্বীনের উপর অবিচল থাকার তৌফিক দান করুন ৷ আমিন!
লেখক: আবদুর রশীদ
Comments
Post a Comment