নতুন বিবাহিতদের জন্য টিপ্স
Point: 01
নিয়মিত Intercourse-এর আগে দু'জনেই তাসমিয়ার পর নিম্নোক্ত দু'য়াটি পড়বে—
بِسْمِ اللّهِ اللّهُمَّ جَنِّبْنَا الشَّيْطَانَ وَ جَنِّبِ الشَّيْطَانَ مَا رَزَقْتَنَا
অর্থ: ‘আল্লাহর নামে শুরু করছি, হে আল্লাহ! আমাদেরকে তুমি শয়তান থেকে দূরে রাখ। আমাদেরকে তুমি যা দান করবে (মিলনের ফলে যে সন্তান দান করবে) তা থেকে শয়তানকে দূরে রাখ।’
আর যদি দু'য়াটি মনে না থাকে, তাহলে তাসমিয়া হলেও পড়ে Intercourse করবে ৷
সবসময় নেক সন্তানের জন্য দু'য়া করা—
رَبَّنَا هَبۡ لَنَا مِنۡ اَزۡوَاجِنَا وَ ذُرِّیّٰتِنَا قُرَّۃَ اَعۡیُنٍ وَّ اجۡعَلۡنَا لِلۡمُتَّقِیۡنَ اِمَامًا (সুরা ফুরকান, আয়াত: ৭৪)
رَبِّ هَبۡ لِیۡ مِنَ الصّٰلِحِیۡنَ
অর্থ: হে আমার প্রতিপালক, আমাকে একটি সুপুত্র দান করুন। (সুরা সাফফাত, আয়াত: ১০০)
Point: 02
এই সময় যে সুস্থ খাবারগুলো নিয়মিত খেতে হবে....
১. দুধ ২. ডিম ৩. বাদাম ৪. কিশমিশ ৫. গাজর ৬. খেজুর ৭. রসুন এবং শাকসব্জি ৷ তবে প্রথম তিনটা খাবার নিয়মিত রুটিনে রাখতে হবে অবশ্যই ৷ উক্ত খাবারগুলো Sperm তথা শুক্রাণু ঘাঢ় ও বৃদ্ধিতে ভুমিকা রাখে ৷ ফলে সন্তান জন্মের ক্ষেত্রে ভয় কেটে উঠবে ৷ কারণ শুক্রাণুর পরিমাণ যদি কম হয় সন্তান হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না ৷ চিকিৎসকদের মতে, প্রতি মিলিলিটারে শুক্রাণুর সংখ্যা ১৫ মিলিয়ন বা দেড় কোটির কম হলেই প্রাকৃতিকভাবে গর্ভধারণে সমস্যা হতে পারে ৷ এই বিষয়টা মেয়ের তুলনায় ছেলের সমস্যা বেশি হয়ে থাকে ৷ তাই নিয়মকানুন মেনে চলা জরুরি ৷ উনার(She) খাদ্য তালিকা নিয়ে এখন বলার প্রয়োজন নেই ৷
Point: 03
সন্তান জন্মের দুটো গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে—
( ১. পুরুষের Semen ২. নারীর Overy )
এই দুটি যতক্ষণ একসাথে মিলিত হচ্ছে না..ততক্ষণ পর্যন্ত সন্তান আসার সম্ভাবনা নেই ৷ মেয়েদের Overy কখনো বাহিরে বের হবে না ৷ তাদের Overy তথা বীজকোষ তাদের Ovum-এর স্থান থেকে বের হয়ে Uterus তথা জরায়ুতে আসবে এবং সেখানেই পুরুষের Semen তথা বীর্য মিলিত হয়ে সন্তান জন্মের প্রক্রিয়া ঘটে ৷ এবার আসল পয়েন্টে আসি, মনে রাখতে হবে— স্ত্রীর Overy বের না হয়ে Uterus-এ না আসলে পুরুষের Semen-এর সাথে মিলিত হবে না ৷ ফলে সন্তান হবে না ৷ তাই যেভাবেই হোক স্ত্রীর Overy বের করে Uterus-এ আনতে হবে ৷ আর সেটা আসবে কেবল স্ত্রীকে সর্বোচ্ছ তৃপ্ত চাহিদার চৌড়ায় নিয়ে যেতে হবে ৷ উত্তেজনার শেষ মুহুর্তে পৌঁলেই তার Ovum থেকে Overy বের হয়ে Uterus-এ আসবে এবং পুরুষের Semen-এর সাথে মিলিত হতে পারবে ৷ ফলে সন্তান হবে যদি আল্লাহ চান ৷ Intrcourse-এর তৃপ্তি শেষ হয়ে Semen out হলে সেটা পুরোপুরি স্ত্রীর Uterus-এ পৌঁছানোর জন্য সুযোগ করে দিতে হবে ৷ অর্থাৎ, ঐ সময় স্ত্রীর ভেতর থেকে সাথে সাথে পেনিস বের করা যাবে না ৷ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে এবং তার উপর শুয়ে থাকতে হবে ৷
"দাম্পত্য জীবন যেভাবে সুখের হয়"
মহান আল্লাহ তা'য়ালা কর্তৃক সৃষ্ট ভালোবাসার বন্ধনগুলোর মধ্যে অন্যতম বরকতময় বন্ধন হল স্বামী-স্ত্রীর দাম্পত্য জীবন যা হযরত আদম ও হাওয়া (আ.) থেকে শুরু হয়েছে এবং কিয়ামত অবদি তা চলমান থাকবে ৷ তাই, এমন মধুর সম্পর্কের দাম্পত্য জীবন যেন সুখের হয় সে জন্য ইসলামের নির্দেশনা মেনে চলা এবং হেকমত অবলম্বন করা অতীব গুরুত্বপূর্ণ ৷ ইসলাম স্বামী-স্ত্রীর অনেক গুরুত্বের কথা তুলে ধরেছেন ৷ দাম্পত্য জীবন যেহেতু একটি দীর্ঘ পথ চলা ৷ তাই, এতে ভালো-মন্দ, হাসি-খুশি, রাগ-অভিমান ইত্যাদির উপস্থিতি একটি স্বাভাবিক বিষয় ৷ অতএব, ইসলামের হুকুমত মেনে চলার পাশাপাশি দাম্পত্য জীবন সুখের করতে কিছু টিপ্স অনুসরণ করা যেতে পারে যাতে একটি সুদৃঢ় সম্পর্কে পরিণত হয় ৷ মনে রাখতে হবে, শয়তানকে কখনোই সুযোগ দেওয়া যাবে না ৷প্রথমত, স্বামী যে কাজগুলো করতে পারে— স্বামী রুমে প্রবেশ করে স্ত্রীর সাথে সালাম বিনিময় করবে ৷ এতে করে স্ত্রী স্বামীর প্রতি আরো বেশি শ্রদ্ধাশীল হয় ৷ বের হলে হাত কিংবা কপালে একটি কিস করে ভালোবাসা নিবে ৷ এরূপ করাতে ভালোবাসার গভীরতা আরো বৃদ্ধি পায় ৷ স্ত্রীকে বেশি বেশি সময় দিন ৷ এতে করে দূরত্বের ফাটল সৃষ্টি হবে না ৷ স্ত্রীর কোলে মাথা রেখে ঈমান জাগানিয়া ও ভালোবাসার গল্প করলে উভয়ের মাঝ থেকে নিঃসঙ্গতা দূর হয়ে যাবে ৷ যদি পারেন কুরআন পাঠ করে শুনান কিংবা ইসলামী সংগীত শুনাতে পারেন ৷ মধ্য রাতে তাহাজ্জুদে উঠলে স্ত্রীকেও ডেকে তুলুন ৷ এতে করে আরো স্ত্রীর ধার্মিকতা বাড়বে এবং পরস্পরের প্রতি সুধারণা জন্মাবে ৷ কাজের ফাকেও স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে একটু মুচকি হাসি দেওয়া ভালো ৷ এমনকি স্ত্রীর কাজে সহযোগিতা করা সুন্নাত ৷ স্ত্রীর অসুস্থতায় পাশে থেকে সেবা শুশ্রূষার পাশাপাশি তাকে সাহস দেওয়া ও তার নিঃসঙ্গতা দূর করা একান্ত অপরিহার্য ৷ দূরে কোথাও বের হলে একাকিত্ব দূর করতে ঘন ঘন ফোনে আলাপ করা উত্তম ৷ বাইর থেকে ফেরার সময় স্ত্রীর জন্য ছোট্ট কিছু পকেটে করে নিয়ে আসতে পারেন ৷ খেতে বসলে স্ত্রীর পানকৃত অবশিষ্ট পানি পান করলে মোহাব্বত বৃদ্ধি পাবে ৷ স্ত্রীর করা রান্নার প্রশংসা করুন ৷ একসাথে খেতে বসলে স্ত্রীর মুখে খাবারের লোকমা তুলে দিন ৷ রাসূল(স.) হযরত আয়েশা(রা.)-এর খাওয়া অবশিষ্ট মাংসের অংশ চুসে খেতেন ৷ আয়েশা(রা.) যে পাশ থেকে পান করতে রাসূল(স.)ও একই পাশ থেকে পান করতেন ৷ এটাই স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার শিক্ষা ৷ সকাল-সন্ধ্যায় একবার হলেও বলুন "আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি" ৷ এমন কোনো আচরণ প্রকাশ না করা যাতে স্ত্রীর মাঝে স্বামীর প্রতি অনিহা চলে আসে ৷ আর হ্যাঁ, সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হল অন্য কোনো বেগানা নারীর সাথে সম্পর্কে না জড়ানো ৷ স্ত্রীগণ সবচেয়ে স্বামীর এই কাজ থেকে অতিরিক্ত দুঃখ পেয়ে থাকে ৷ তাছাড়া এমন চরিত্রের কারণে কখনো সংসার সুখের হয় না; বরং ধ্বংসের অতল গহ্বরে নিপতিত হয় ৷ স্ত্রীর বৈধ চাহিদাগুলো সাধ্যের মধ্যে পূরণ করা প্রয়োজন ৷ তাছাড়া উত্তম কথার মাধ্যমে স্ত্রীকে পর্দার গুরুত্ব এবং আচরণে শালীনতার শিক্ষা দেওয়াও জরুরি ৷ বেশি বেশি আল্লাহ মুখি করে তোলা এবং পাপ কাজ থেকে স্ত্রীকে বিরত রাখা স্বামীর একান্ত অপরিহার্য দায়িত্ব ৷ জীবন যেহেতু একাকিত্ব হয়ে বাস করে না ৷ তাই এর মাঝে রাগ-অভিমান ও হাসি-খুশি বিদ্যমান ৷ অতএব, স্ত্রীর অভিমানের সময় নিজেকে হৃদয়বান করুন এবং রাগ, অভিমান দূর করার চেষ্টা করুন ৷ কোনো একটা স্মৃথি বিজড়িত হাসির গল্প কিংবা খুশির কোনো মুহূর্তের কথা স্মরণ করিয়ে দিন ৷ এতে অভিমান কমে যেতে পারে ৷ অথবা, কোথাও বেড়াতে নিয়ে যান ৷ এতে করে মনটা আরো বেশি রিফ্রেশ হবে ৷ যদি পারেন কিছু গিফ্ট করেন ৷ মনে রাখবেন, স্ত্রী হল কাচের মত ৷ একটু এদিক-ওদিক হলে ভেঙ্গে যেতে পারে ৷ তাই, অতি যত্ন করে ভালোবাসায় আগলে রাখুন এবং বেশি বেশি তার পজিটিভ দিকগুলো নিয়ে আলোচনা করুন, তার আচরণে ভালো লাগার বিষয়গুলো তুলে ধরুন ৷ স্ত্রীর ভুলগুলোকে আন্তরিকতার সাথে শুধরে দিন ৷ কখনো স্ত্রীর গায়ে হাত তুলবেন না এবং স্ত্রীকে বেশি বেশি ভালোবাসুন ৷ ইনশা'আল্লাহ! এতে অবশ্যই সম্পর্কের দৃঢ়তা বৃদ্ধি পাবে ৷ বিশেষ করে পরকালে জান্নাতে একসঙ্গে প্রবেশ করার জন্য আমলের পথ ধরে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন ৷ সফল হবে ইনশা'আল্লাহ!
দ্বিতীয়ত, স্ত্রী যে কাজগুলো করতে পারে— স্ত্রীগণ প্রধান যে বিষয়টা মনে রাখবে তা হল 'স্বামী হল স্ত্রীর জন্য সবচেয়ে বড় নেয়ামত' ৷ স্বামীর অবস্থান পাশে না থাকলে দেখতে পাবে পুরো দুনিয়াটাই পাশে থাকছে না ৷ কোনো ভরসা, স্থায়ী কোনো আশ্রয় কিংবা প্রশান্তির কোনো জায়গা বলতে খোঁজে পাবে না ৷ তাই, স্বামীর বৈধ সকল ক্ষেত্রে স্ত্রীর আনুগত্য একান্ত কর্তব্য ৷ অতএব, স্বামী পরিশ্রম শেষে ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাড়ি ফিরলে পাশে গিয়ে তাকে বাতাস করুন ৷ পাকাটা ছেড়ে দিন ৷ পানি চাইলে এনে দিন ৷ কাপড়গুলো নিজে ধৌত করুন ৷ অনেক সময় স্বামীর মন-মানসিকতা প্রফুল্ল থাকে না ৷ সে সময় স্বামীর অবস্থা বুঝার চেষ্টা করুন ৷ স্বামীর আর্থিক অবস্থানের দিকে লক্ষ্য রেখে নিজেদের আবদারগুলো প্রকাশ করুন ৷ অহেতুক কোনো চাওয়া-পাওয়া নিয়ে স্বামীকে বেহুদা কথা শুনাবেন না ৷ স্বামীর কোনো অযোগ্যতা নিয়ে কথা নয়; বরং তাকে উৎসাহিত করুন ভালো কোনো কাজে ৷ স্ত্রীর সঙ্গটা স্বামীর জন্য অনেক বড় মানের হয় ৷ তার দুঃখের সময় তাকে জড়িয়ে ধরুন এবং খুশি করার চেষ্টা করুন ৷ খাদিজা (রা.) রাসূল(স.)-এর দুঃখের সময়টায় সবচেয়ে বেশি পাশে ছিলেন ৷ তাঁকে সান্ত্বনা দিয়েছিলেন ৷ বাইর থেকে স্বামী বাড়ি ফিরলে আগে সালাম বিনিময় করুন ৷ পারিবারিক বিষয় নিয়ে উভয়ই আলোচনা করুন এবং মতামত দিন ৷ স্বামীর বৈধ সকল হুকুম অক্ষরে অক্ষরে পালন করুন ৷ কারণ কখনো স্বামী রেগে থাকলে মনে রাখবেন নিজের উপর আল্লাহ নারাজ রয়েছেন ৷ রাসূল(স.) বলেছেন, জাহান্নামে নারীদের অবস্থান বেশি ৷ কেননা তারা বেশি বেশি অভিশাপ দেই ও স্বামীর নাশুকরিয়া করে ও অবাধ্য হয় ৷ স্বামীকে ইম্প্রেস করার চেষ্টা করুন যেন নিজের প্রতি অনিহা চলে না আসে ৷ এমন কোনো আচরণ প্রকাশ করো না যাতে স্বামীর মনে কষ্ট লাগে ৷ বিশেষ করে স্বামী তখনই কষ্ট বেশি পাই যখন জানতে পারে যে, স্ত্রী পরকিয়ায় লিপ্ত ৷ সুতরাং, এমন কাজে কখনো পা বাড়িও না ৷ না হয় উভয় জাহান হারাবে ৷ মনে রাখবেন, স্বামীর যত অর্জন, যত চেষ্টা রয়েছে সবকিছু স্ত্রীকে ঘিরে ৷ কখনো স্বামীর কণ্ঠস্বরের উপর নিজের কণ্ঠস্বরকে উঁচু করো না ৷ স্বামীকে বেশি বেশি ভালোবাসা দিন এবং স্বামীর ভুলগুলোকে ভুলে যান আর পরকালের পথে সৎকর্ম নিয়ে এগিয়ে চলুন ৷ আশা করা যাই যে, এমন মধুর সম্পর্কে কখনো ফাটল ধরবে না ৷ আল্লাহ তা'য়ালা প্রতিটি দাম্পত্য জীবনকে সুখময় করুন ৷ আমিন!
লেখক: আবদুর রশীদ

Comments
Post a Comment