পাঁচ ওয়াক্ত নামায : মুসলিম উম্মাহর জন্য যে বার্তা নিহিত

 "পাঁচ ওয়াক্ত নামায : মুসলিম উম্মাহর জন্য যে বার্তা নিহিত (পর্ব-০১)"



মহান আল্লাহ তা'য়ালা রাসূল(স:)-এর মাধ্যমে অহির ধারা সম্পূর্ণরূপে সমাপ্তি ঘোষণা করে মানবজাতীর জন্য একটি চুড়ান্ত জীবন-বিধান নাজিল করেছেন ৷ এই চুড়ান্ত দ্বীনের মধ্যে যে কয়টা মৌলিক ফরজ হিসেবে ঘোষিত হয়েছে তার মধ্যে ঈমানের পরে দ্বিতীয়তম হচ্ছে নামাজ ৷ আর এই পাঁচ ওয়াক্ত নামায রাসূল(স:)-এর উম্মাহর জন্য ফরজ করে দিয়েছিলেন যার পেছনে রয়েছে বিস্ময়কর ঘটনা যা মেরাজ নামে সুপরিচিত ৷ অতএব, এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মধ্যে রয়েছে উম্মাহর জন্য অসংখ্য ফজিলত ও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা ৷ আসুন সংক্ষেপে কয়েকটি বার্তা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার চেষ্টা করি—

প্রথম বার্তা: মহান আল্লাহ তা'য়ালা কুরআন মাজিদে ইরশাদ করেন, 'আর জিন ও মানুষকে কেবল এজন্যই সৃষ্টি করেছি যে তারা আমার ইবাদাত করবে ৷' (সূরা-যারিয়াত: ৫৬) এখানে আমাদের সৃষ্টির প্রথম উদ্দেশ্যই হল আল্লাহর ইবাদত করা এবং মেরাজের ঘটনা থেকে আরো একটি বিষয় লক্ষণীয় যে, আল্লাহ তা'য়ালা প্রথম পঞ্চাশ ওয়াক্ত নামাজের আদেশ করেছিলেন ৷ কিন্তু, আদেশ নিয়ে রাসূল(স:) ফেরার সময় মূসা(আ:)-এর সাথে দেখা হয় এবং মূসা(আ:) তাঁকে রবের কাছে ফিরে গিয়ে সালাত আরো কমিয়ে আনার নির্দেশ দেন ৷ এতে জিবরাঈল(আ:)ও সহমত প্রকাশ করেন ৷ ফলে রাসূল(স:) মহান আল্লাহর কাছে গেলে নামাজ চল্লিশ ওয়াক্ত করে দেন ৷ আবারো ফেরার পথে মূসা(আ:) একই নির্দেশ দেন যেন নামায আরো কমিয়ে নেন ৷ এইভাবে কমাতে কমাতে নামাজ পাঁচ ওয়াক্তে নিয়ে আসা হয় ৷ এখানে উল্লেখ্য বিষয় হল রাসূল(স:) কিছুক্ষণ পরপরই আল্লাহর কাছে গিয়েছিলেন নামায কমানোর উদ্দেশ্যে ৷ এই বারবার ফিরে যাওয়াই হল আমাদের জন্য শিক্ষা ৷ অর্থাৎ আমাদেরকে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজকে পঞ্চাশ ওয়াক্তের মত গুরুত্ব দিয়ে প্রতি ওয়াক্তে রবের কাছে হাজিরা প্রদান করা ৷ যদি নামাজ কমানো না হত, তাহলে পঞ্চাশ ওয়াক্তের জন্য আমাদেরকে প্রতি আধ ঘন্টা পরপর সালাতের প্রস্তুতি নিতে হত ৷ সুতরাং, নামাজের মাধ্যমে আমাদেরকে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত পালন ও তা সহজতার মাধ্যমে আমাদের জন্য ফজিলত পঞ্চাশ ওয়াক্তেরই রেখে দেওয়া উম্মাহর জন্য রবের বিশেষ অনুগ্রহের বার্তা প্রদান করেন ৷

দ্বিতীয় বার্তা: আল্লাহ তা'য়ালা ইরশাদ করেন, 'নিশ্চয় সালাত অশ্লীল ও মন্দকাজ থেকে বিরত রাখে ৷' (সূরা-আনকাবুত: ৪৫) এখানে দ্বিতীয় বার্তা হল যখন বান্দা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ অত্যন্ত একনিষ্ঠতার সাথে আদায় করেন তখন বান্দা কোনো অশ্লীলতার দিকে ধাবিত হওয়ার ক্ষেত্রে এক বিরাট প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয় ৷ একজন প্রকৃত নামাজি কখনো গর্হিত কাজে লিপ্ত হয় না ৷ তাই, নিয়মিত পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ মানুষকে যাবতীয় অশ্লীলতা ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখে ৷ যখন কোনো বান্দা নামায পড়ে তখন তার অন্তরে সবসময় আল্লাহর ভয় কাজ করে ৷ ফলে বান্দা সমস্ত খারাপ কাজ থেকে বিরত থাকার প্রচেষ্টা করেন ৷ তাই, দ্বিতীয় বার্তা হল নামাজের মাধ্যমে মানুষ সমস্ত পাপ কাজ থেকে বিরত থাকবে ৷

তৃতীয় বার্তা: আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, 'আর তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও ৷ নিশ্চয় তা বিনয়ী ছাড়া অন্যদের উপর কঠিন ৷' (সূরা-বাকারাহ: ৪৫) এখানে তৃতীয় বার্তা হল আল্লাহ তা'য়ালা চান যে, বান্দা তার যাবতীয় চাওয়া-পাওয়া সবগুলো যেন তাঁর কাছে ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে চাই ৷ যখন বান্দা কোনো কষ্টে কিংবা বিপদের সম্মুখিন হয় তখন সালাতে দাঁড়িয়ে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া অতিব জরুরী ৷ সমস্ত কিছুর সমাধান কেবল রবের কাছেই নিহিত ৷ অতএব, আল্লাহর বার্তা হল আমরা সর্বাবস্থায় যেন নামাযের মাধ্যমে তাঁর কাছে আরজি জানায় ৷ আমাদের সবকিছু যেন তাঁকেই নামাজের মাধ্যমে শেয়ার করি ৷ আর বান্দা এবং আল্লাহর মাঝে সবচেয়ে নিকটতম হওয়ার অন্যতম মাধ্যম সিজদাহ যা কেবল নামাজের মধ্যেই নিহিত রয়েছে ৷

চতুর্থ বার্তা: মহান আল্লাহ তা'য়ালা ইরশাদ করেন, 'আর তোমার পরিবার-পরিজনকে সালাত আদায়ের আদেশ দাও এবং নিজেও তার উপর অবিচল থাক ৷' (সূরা-ত্বহা: ১৩২) এখানে চতুর্থ বার্তা হল নিজে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি পরিবার-পরিজনদেরও আদেশ করার হুকুম করেছেন ৷ নিজেকে এবং পরিজনদেরকেও (নিকটাত্মীয়, বন্ধু, প্রতিবেশী ইত্যাদি) জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করার আদেশ করেছেন ৷ কারণ জাহান্নামের ভয়াবহতা কল্পনাতীত ৷ এছাড়াও হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, কিয়ামতের দিন সর্বপ্রথম নামাজের হিসাব গ্রহণ করা হবে ৷ (সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং- ৪৬৭) অতএব, এই বার্তার দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৷

পঞ্চম বার্তা: পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে,
'তাদের পরে আসল এমন এক অসৎ বংশধর যারা সালাত বিনষ্ট করল এবং কুপ্রবৃত্তির অনুসরণ করল। সুতরাং শীঘ্রই তারা জাহান্নামের শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে ৷ তবে তারা নয় যারা তাওবা করেছে, ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করেছে; তারাই জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি কোন যুলম করা হবে না ৷ (সূরা-মরিয়াম: ৫৯-৬০)
হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, রাসূল(স:) ইরশাদ করেন, 'কোন মুমিন ব্যক্তি এবং শিরক ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হল সালাত ত্যাগ করা ।' (মুসলিম); রাসূল(স:) আরো ইরশাদ করেছেন, 'আমাদের ও তাদের(কাফের) মধ্যে পার্থক্য হল সালাত, যে তা পরিত্যাগ করল সে কাফের হয়ে গেল ৷' (মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং- ২১৮৫৯) উক্ত বর্ণনায় গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হল নামায পরিত্যাগের ভয়ঙ্কর শাস্তির সুসংবাদ ও পরিত্যাগকারী কাফেরের পর্যায়ে উন্নীত হয়ে পড়ার দুঃসংবাদ প্রদান ৷ সুতরাং, একজন মুসলিমের উচিত ঈমান গ্রহণের পর নামাজের কাজ সম্পাদন করা আবশ্যকীয় কর্তব্য ৷ আল্লাহ তা'য়ালা ইরশাদ করেন, 'নির্ধারিত সময়ে সালাত কায়েম করা মুমিনদের জন্য অবশ্য কর্তব্য ৷' (সূরা-নিসা: ১০৩)

এই পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের মাধ্যমে আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর বান্দাদের অগণিত বার্তা প্রদান করেছেন যা ব্যক্তি জীবনে, সামাজিক জীবনে ও রাষ্ট্রীয় জীবনে পরিচালনা করার বিশেষ গুরুত্বরোপ করা হয়েছে ৷ এর মাধ্যমে আখেরাতের কল্যাণ ও দুনিয়াবী শান্তি প্রতিষ্ঠায় এর ভূমিকা তাৎপর্যবহ ৷ দ্বিতীয় পর্বে  নামাজের আরো বিশেষ বার্তা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার চেষ্টা করব ৷ ইনশা'আল্লাহ! আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের সবাইকে বোঝার ও আমল করার তৌফিক দান করুন ৷ আমিন!

লেখক: আবদুর রশীদ
শিক্ষার্থী, সরকারি সিটি কলেজ চট্টগ্রাম ৷
সদস্য, বাংলাদেশ নবীন লেখক ফোরাম ৷



"পাঁচ ওয়াক্ত নামায : মুসলিম উম্মাহর জন্য যে বার্তা নিহিত (পর্ব-০২)"

মহান আল্লাহ তা'য়ালা কর্তৃক ফরজ বিধানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য দ্বিতীয়তম ফরজ বিধান হল নামাজ ৷ নামাজের মাধ্যমে মহান আল্লাহ তা'য়ালা অগণিত ম্যাসেজ বা বার্তা তাঁর বান্দাদের উদ্দেশ্যে ব্যক্ত করেন ৷ প্রথম পর্বে আমরা নামাজের বিশেষ পাঁচটি বার্তা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার চেষ্টা করেছি ৷ আজ দ্বিতীয় পর্বে আরো গুরুত্বপূর্ণ কিছু বার্তা নিয়ে আলোচনা করার চেষ্টা করব ৷ ইনশা'আল্লাহ!

ষষ্ঠ বার্তা: নামাজের কাতারে রয়েছে অনন্য বৈশিষ্ট্য যেখানে ধনী-গরিব কোনো পার্থক্য নেই ৷ মালিক যেখানে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে তার শ্রমিক বা অধীনস্থ ব্যক্তিও নামাজ আদায় করে ৷ বাদশা আর ফকিরের মাঝে কোনো ভিন্ন বৈচিত্র পরিলক্ষিত হয় না ৷ তাই, নামাজ পুরো উম্মাহকে বৈষম্যের জাল না বুনার বার্তা প্রদান করেন ৷ পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, 'তোমরা আল্লাহর রজ্জুকে আঁকড়ে ধরো এবং পরস্পর বিভক্ত হয়ো না ৷' (সূরা-ইমরান: ১০৩) এখানে বিভক্ত হওয়ার বিভিন্ন পর্যায় রয়েছে ৷ তাই পৃথিবীতে যত বিভক্তি আর বৈষম্যের অস্তিত্ব রয়েছে সব পরিত্যাগের কথা স্মরণ করিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি প্রদান করেন ৷

সপ্তম বার্তা: শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় নামাযের ভূমিকা গুরুত্ববহ ৷ মসজিদে মুসল্লিগণ সারিবদ্ধভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাতারবন্ধি হয়ে সালাত আদায় করা এবং একজন ইমামের অনুসরণে একটি নিয়মেই নির্দিষ্ট কাজ সম্পাদন করার মধ্য দিয়ে আরো একটি বিশেষ হিকমাত রয়েছে ৷ এই বিষয়গুলো মূলত শান্তি-শৃঙ্খলার প্রতিকি হিসেবে বার্তা বহন করে ৷ অর্থাৎ, এইভাবেই প্রত্যেক মুসলিমকে শান্তিপূর্ণ ও শৃঙ্খলতার আদলে নিজেকে, পরিবারকে, সমাজকে এবং দেশকে গড়ে তোলার বিশেষভাবে বিশেষায়িত করা হয়েছে ৷ অতঃপর, পবিত্র কোরআনে উপদেশবাণী ঘোষিত হয়েছে, 'তোমরা পৃথিবীতে শান্তি স্থাপনের পর এতে বিপর্যয় সৃষ্টি করো না ৷' (সূরা আল-আ'রাফ, আয়াত: ৫৬) হাদীসে রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, 'মুসলমান সেই ব্যক্তি, যার হাত ও মুখ থেকে অপর মুসলমান নিরাপদ ৷' (বুখারি ও মুসলিম) অতএব, নামায মুসলিম উম্মাহকে জমিনে শান্তি-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করার বার্তা প্রদান করেন ৷

অষ্টম বার্তা: নামায হল মুসলিমদের দৈনিক মিলনকেন্দ্র এবং তা ঐক্যতার সূর বহন করে ৷ নামাযের মাধ্যমে প্রতিটি মুসলিম ব্যক্তি একে অপরের সাথে নিয়মিত সাক্ষাৎ করার সুযোগ পায় ৷ পাশাপাশি সাক্ষাৎ-এর দরুন পরস্পরের ভালো-মন্দ অবস্থা সম্পর্কে অবহিত হওয়া যায় ৷ এতে করে পরস্পরের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হয় যা মুসলিম উম্মাহকে ঐক্য থাকতে সাহায্য করে ৷ অর্থাৎ, নামায প্রতিটি মুসলিম উম্মাহকে একটি অঙ্গে পরিণত হওয়ার বার্তা প্রদান করে ৷ আল্লাহ তা'য়ালা ইরশাদ করেন, 'নিশ্চয় মুমিনরা পরস্পর ভাই ভাই ৷' (সূরা হুজরাত, আয়াত: ১০)
অপরদিকে রাসুল (সা.) মুসলিম জাতিকে একটা দেহের সাথে তুলনা করে বলেছেন, ‘পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া-মায়া ও স্নেহ-মমতার দিক থেকে গোটা মুসলিম সমাজ একটি দেহের মতো ৷ যদি দেহের কোনো বিশেষ অঙ্গ অসুস্থ হয়ে পড়ে, তাহলে অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গেও তা অনুভত হয়; সেটা জাগ্রত অবস্থায় হোক কিংবা জ্বরাক্রান্ত অবস্থায় ৷’ (সহিহ মুসলিম: ৬৭৫১)। তিনি আরও বলেছেন, ‘একজন মু'মিন অন্য মু'মিনের জন্য একটি ইমারত সদৃশ্য, যার এক অংশ আরেক অংশকে মজবুত করে ৷’ (সহিহ মুসলিম: ৬৩৪৯) সর্বোপরি, নামায মুসলিম উম্মাহকে একতার তাকিদ দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বার্তাটি প্রদান করেন ৷

নবম বার্তা: নামায সুস্থ থাকতে সহায়তা প্রদান করে ৷ যেমন- ফজর নামাজ আদায় করতে খুব ভোরে জাগ্রত হতে হয় যা স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত কার্জকরি এবং দীর্ঘসময় ধরে ঘুমন্ত থাকা মস্তিষ্কের জন্য ক্ষতি ৷ বর্তমান বিজ্ঞানও তাই বলে ৷ এইভাবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাযের ফলে শারীরিক সুস্থতার বিশেষ উপকার নিহিত রয়েছে ৷ এ ছাড়াও নামায এক প্রকার শারীরিক ব্যায়ামের কাজ করে ৷ নিয়মিত শরীর চর্চা মানুষের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন ৷ বর্তমান ডায়াবেটিক রোগে আক্রান্ত রোগীদের ডাক্তারগণ শরীর চর্চার র্নিদেশ দিয়ে থাকেন ৷ তাছাড়া প্রত্যেকের জন্য শরীর চর্চা অতিব জরুরী ৷ অতএব, এতে করে পাঁচ ওয়াক্ত নামায মুসলিম উম্মাহকে শারীরিক যত্ন নেওয়ার এবং সুস্থ থাকতে বিশেষ বার্তা প্রদান করেন ৷

দশম বার্তা: নামায হল আনুগত্য প্রদর্শনের টিচিং সেন্টার ৷ নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট ওয়াক্তে সমস্ত কর্ম স্তগিত রেখে সালাতে রবের নিকট হাজিরা প্রদান হল রবের কাছে আনুগত্য প্রদর্শন ৷ এটা কেবল রবের ক্ষেত্রে আনুগত্যের শিক্ষা দেই না; বরং জমিনে যত প্রকার আনুগত্যের মাপকাটি রয়েছে সব ক্ষেত্রে এর শিক্ষা প্রয়োগের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে ৷ অর্থাৎ, মুসলিমগন তাদের আমিরকে মেনে চলবে এবং দ্বীন প্রতিষ্ঠায় সর্বদা নিজেদের উৎসর্গ করবে, পরিবারের সদস্যগণ পরিবারের কর্তা বা অভিভাবকে, দেশের নাগরিক তাদের রাষ্ট্র প্রধানকে, সমাজবাসী তাদের চেয়ারম্যান ও মেম্বারকে মান্য করবে ৷ এছাড়াও কর্মস্থলে কর্মরত কর্মীরা তাদের প্রধানকে মেনে চলবে ইত্যাদি ৷ এর উদাহরণ নামাযেই নিহিত রয়েছে ৷ অর্থাৎ, মুসল্লিগণ একজন ইমামের অনুসরণে নামায আদায় করে থাকেন ৷ আর এটাই হল প্রধানকে অনুসরণ করা ৷ সুতরাং, আনুগত্যের যত প্রকার সেক্টর রয়েছে সব ক্ষেত্রে এর প্রয়োগ জরুরী এবং তা অনুসরণ ও অনুকরণের নির্দেশের মাধ্যমে বিশেষ এই বার্তাটি প্রদান করেন ৷

সর্বোপরি, নামাযের মাধ্যমে মহান আল্লাহ তা'য়ালা মুসলিম উম্মাহকে অসংখ্য ম্যাসেজ বা বার্তা বাতলে দিয়েছেন ৷ প্রতিটি বার্তা মুসলিম উম্মাহকে অনুসরণ করা একান্ত অপরিহার্য ৷ এছাড়া নামাযের মধ্যে আল্লাহ তা'য়ালা মুসলিম উম্মাহর জন্য কী কী কল্যাণ নিহিত রেখেছেন তা উদঘাটন করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ৷ ইনশা'আল্লাহ! পরবর্তী পর্বে আমরা নামাযে নিহিত থাকা আরো বিশেষ কিছু বার্তা নিয়ে আলোচনা করা চেষ্টা করব ৷ উপরোক্ত আলোচিত বার্তাগুলো আল্লাহ তা'য়ালা আমাদের বোঝার ও আমল করার তৌফিক দান করুন ৷ আমিন!

লেখক: আবদুর রশীদ

Comments