সন্তানের প্রতি অভিভাবকের নজর বাড়ানো উচিত
সন্তান হল কাদা মাটির ন্যায় ৷ ওরা ঠিক সেভাবে বেড়ে উঠে, যেভাবে তাদের যত্ন নেয়া হয় ৷ বর্তমান অধিকাংশ পিতা-মাতা তাদের সন্তানদের প্রতি তেমন যত্নবান নয়, যেমন বাহ্যিকতায় প্রকাশমান ৷ দেখা যায়, সন্তানদের শারীরিক গঠন ও সুস্বাস্থ্য নিয়ে পিতা-মাতা অধিক সচেতন ৷ কিন্তু তাদের চারিত্রিক গঠনে মোটেও চিন্তিত নয় ৷ বিশেষ করে ১০ থেকে উর্ধ্বতন সন্তানদের প্রতি অতিমাত্রায় ঢিল দেওয়ার কারণে সন্তানরা অজান্তে বিভিন্ন অসামাজিক কার্যকলাপে জড়িয়ে পড়ায় ফুলের মত জীবনগুলো আজ হুমকির সম্মুখীন ৷ ফুলগুলো আলো ছড়ানোর পূর্বেই অন্ধকারে নিমজ্জিত হচ্ছে ৷ এর পেছনে একমাত্র দায়ী হল পিতা-মাতা ৷
বর্তমান সমাজ ব্যবস্থার দিকে লক্ষ্য করলে প্রতিয়মান হয় যে, প্রায়ই পরিবারের অভিভাবকগণ সকাল ৭-৮ টার মধ্যে সন্তানদের ঘুম থেকে জাগ্রত করতে এক অবিশ্বাশ্য তাড়াহুড়োর ঝড় বয়ে দেই ৷ যার কারণ একমাত্র স্কুল, কলেজের সময় অতিবাহিত হওয়া, সঠিক সময়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছানো এবং পরীক্ষার কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার ভয় ইত্যাদি ৷ প্রকৃত অর্থে সন্তানদের প্রতি পিতা-মাতার এটাই কি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব বলে চিহ্নিত? অথচ নামাজের জন্য এক ঘন্টা আগে ঘুম থেকে জাগানোটা সন্তানদের বড্ড ক্ষতি হওয়ার চিন্তায় কৃত্রিম ভালোবাসা প্রকাশ করে ৷ পরবর্তীতে এ প্রকার কৃত্রিম ভালোবাসা গ্রহণ করা সন্তানরাই চরিত্রে অনৈতিক শিক্ষা লালন করে বড় হতে থাকে ৷
আজকের পিতা-মাতা নিজ সন্তানদের এসএসসি শেষ না হতেই বড় বড় স্মার্টফোন হাতে তুলে দেয়ার পরিণতির প্রতি কতটুকু সচেতন তার প্রমাণ পরিস্থিতিতে বিদ্যমান ৷ বর্তমান দাজ্জাল মিডিয়ার হাজার হাজার ডানা পুরো ইন্টারনেট জুড়ে বিস্তৃত; এমনকি খেলার মাঠ, বিনোদন পার্ক থেকে শুরু করে বিদ্যালয় পর্যন্ত অশ্লীলতার ডানাগুলো ছেয়ে আছে ৷ তাই সন্তানরা স্মার্টফোনে কোন শাখায় বিচরণ করছে সেদিকে কড়া নজর বৃদ্ধি করা, কেমন বন্ধুদের সাথে উঠা-বসা, বিপরীত লিঙ্গ বন্ধুদের সাথে কিসের সম্পর্ক তা খতিয়ে দেখা পিতা-মাতার একান্ত দায়িত্ব ৷ এছাড়াও কুচিং, স্কুল ও কলেজে যাওয়ার নামে বের হয়ে কোথায় যায় সেটার খবর রাখাও গুরুত্বের দাবিদার ৷ মাঝে মাঝে প্রতিষ্ঠানের শ্রেণী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলা এবং সন্তান যে কুচিং সেন্টারে যাতায়াত করে সেটার সাথেও ভালো যোগাযোগ রাখা অপরিহার্য ৷ তবে এটা নিশ্চিত করতে হবে যে, সন্তানরা যেন বিরক্ত অনুভব না করে ৷ অতিরিক্ত চাপ একটি দূর্ঘটনারও জন্ম দিতে পারে ৷ যা করতে হবে তা অত্যন্ত কৌশলে ৷
করোনা চলাকালীন একটি দীর্ঘ সময়ের বিরতি তরুণ পড়ুয়া ছাত্রদের মাঝে মারাত্মক এবং অশালীন পাবজি ও ফ্রি-ফায়ার গেইমিং ব্যাধির জন্ম দেই ৷ এ গেইমগুলো একদিকে যেমন মস্তিষ্ক দূর্বল ও অলসতার প্রভাব ফেলছে; অপরদিকে এর পেছনে অর্থের যোগানও দিতে হচ্ছে ৷ ফলে ইন্টারনেট প্যাক কিন্তে একজন অপরজন থেকে টাকা ধার করছে এবং পরিবার কর্তৃক প্রদান করা নাস্তার টাকা গেইমিংয়ে শেষ করে দিচ্ছে ৷ অনেক সময় এর জন্য দূর্ঘটনারও সূত্রপাত হচ্ছে ৷ তরুণ ছাত্ররা ইন্টারনেট গেইমিং ও সিগারেটের পেছনে যে পরিমাণ অর্থ নষ্ট করছে তা দিয়ে প্রতিটি বাড়িতে একটি করে লাইব্রেরি হয়ে যেত ৷
বর্তমান সময় কলেজে "র্যাগ ডে" নামে জঘন্য অপসংস্কৃতি প্রচলিত ৷ যার কবলে বর্তমান তরুণ-তরুণীর জীবন ধ্বংসের দিকে ধাবিত হচ্ছে ৷ বেপরোয়াভাবে ছাত্র-ছাত্রী অবাধ মেলামেশার পাশাপাশী একে অপরের টি-শার্টে বিভিন্ন অশ্লীল বাক্য লিখে দেওয়া সহ পরস্পর পরস্পরের মুখেও রং মেকে দেওয়ার উৎসবে মেতে থাকে এবং শিক্ষকবৃন্দরাও তা উৎফুল্লের সাথে পর্যবেক্ষণ ও উপভোগ করে ৷ এ জন্য অভিভাবকের সচেতনতা বৃদ্ধি অধিক প্রয়োজন যাতে সন্তানদের এমন গর্হিত কাজ থেকে দূরে রাখা সক্ষম হয় ৷
সুতরাং, নিজ সন্তানদের পড়াশুনার দৈনিক রুটিন সেট করে দিন এবং নির্দিষ্ট ডিউরেশনটা যেন টেবিলের সামনে থাকে সেটা নিশ্চিত করুন ৷ ধর্মীয় নীতি-নৈতিকতার প্রতি যথাযথ জ্ঞান রাখার পাশাপাশি পালন করার জন্য শাসনের মধ্যে রাখুন ৷ সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার শিক্ষার পাশাপাশি সামাজিক ও দেশীয় উন্নয়নমূলক কাজে সন্তানদের নিয়োজিত রাখার চেষ্টা করুন ৷ পরিবার, সমাজ ও দেশের প্রতি সন্তানদের কি কি দায়িত্ব রয়েছে সেগুলো শিক্ষা দিন ৷ অতঃপর সন্তানদের সাথে সুন্দর আচরণ করুন ৷ তাদের কল্যাণমূলক চাহিদা পূরণ করুন এবং অকল্যাণমূলক চাহিদাগুলো সম্পর্কে তাদের সঠিক ধারণা দিন ৷
লেখক: আবদুর রশীদ
Comments
Post a Comment