"কালেমা শুধু মুখে নয় : শর্ত পূরণ অপরিহার্য"
ইসলামে পাঁচটি স্তম্বের মধ্যে প্রথম স্তম্ভ হল ঈমান আনয়ন করা ৷ আর ঈমানের বহি:প্রকাশ ঘটে কালেমার স্বীকৃতির মাধ্যমে ৷ পবিত্র কুরআন শুধু রিডিং পড়াতে যেমন দ্বীন পালন হয় না, তেমনি কালেমা মুখে জপলেও ঈমানের স্বীকৃতি পায় না ৷ যেমনি সঠিক দ্বীন পালন হয় কুরআনের বিধি-বিধান মেনে চললে, তেমনি প্রকৃত ঈমানের স্বীকৃতি প্রকাশ পায় কালেমার শর্তসমূহ পূরণ করলে ৷ বর্তমান অধিকসংখ্যক মুসলমান কালেমার সঠিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে অজ্ঞ ৷ তাই দায়ীদের দাওয়াহ প্রদানের ক্ষেত্রে কালেমার উদ্দেশ্য ও শর্তসমূহ সামনে রাখা অপরিহার্য ৷ অন্যথায়, শুধু মুখে উচ্চারণ করলেই কালেমার স্বীকৃতিতে যথেষ্ট বলে ধারনার জন্ম নিবে সাধারণ মুসলিমের মাঝে ৷ প্রখ্যাত আলেমগণ কুরআন এবং হাদিসের উপর গবেষণা করে কালেমার উদ্দেশ্য নিরূপণ করার চেষ্টা করেছেন ৷ নিম্নে কালেমার স্তম্ভ ও শর্তসমূহ আলোচিত হল—
"লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ" কালেমার স্তম্ভ:
"লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ" এ কালেমার রয়েছে দু’টি স্তম্ভ বা রুকন ৷ তন্মধ্যে প্রথম রুকন হচ্ছে 'না' বাচক আর অপরটি হলো 'হ্যাঁ' বাচক ৷ 'না' বাচক কথাটির অর্থ হচ্ছে, আল্লাহ ব্যতীত সমস্ত কিছুর ইবাদতকে অস্বীকার করা ৷ আর 'হ্যাঁ' সূচক কথাটির অর্থ হচ্ছে একমাত্র আল্লাহ-ই সত্য মা‘বুদ ৷ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, "এটা এ জন্য যে, আল্লাহ-ই প্রকৃত সত্য, আর তিনি ব্যতীত যাদেরকে তারা ডাকে সে সব কিছুই বাতিল"। (সূরা আল-হাজ, আয়াত: ৬২)
"লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ" কালেমার শর্তসমূহ:
"লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ" এই পবিত্র কালেমা মুখে বলাতে কোন উপকারে আসবে না যে পর্যন্ত এর সাতটি শর্ত পূরণ করা না হবে ৷ এটা সত্য যে, প্রতি অক্ষরে উচ্চারণের দরুন ১০ নেকি করে সাওয়াব লাভ হবে ৷ কিন্তু কালেমার প্রকৃত উদ্দেশ্য ও হক পূরণ করা হবে না ৷ তাই কালেমার উদ্দেশ্য ও হক পূরণের জন্য নিম্নোক্ত শর্তসমূহ আদায় করা একান্ত অপরিহার্য ৷
১. এ কালেমার 'না' বাচক এবং 'হ্যাঁ' বাচক দু’টি অংশের অর্থ সম্পর্কে পরিপূর্ণ জ্ঞান থাকা প্রয়োজন ৷ অর্থ এবং উদ্দেশ্য না বুঝে শুধু মুখে এ কালেমা উচ্চারণ করার মধ্যে কোনো উপকার নেই ৷ কেননা সে ক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি এ কালেমার মর্মের ওপর ঈমান আনতে পারবে না ৷ আর তখন এ ব্যক্তির উদাহরণ হবে ওই লোকের মতো যে লোক এমন এক অপরিচিত ভাষায় কথা বলা শুরু করল, যে ভাষা সম্পর্কে তার সামান্যতম জ্ঞানও নেই ৷
২. ইয়াকীন বা দৃঢ় প্রত্যয় ৷ অর্থাৎ এ কালেমার মাধ্যমে যে কথার স্বীকৃতি দান করা হল তাতে সামান্যতম সন্ধেহ পোষণ করা যাবে না ৷
৩. ইখলাস বা নিষ্ঠা যা 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ'-এর দাবী অনুযায়ী ওই ব্যক্তিকে শির্ক থেকে মুক্ত রাখবে ৷
৪. এই কালেমা পাঠকারীকে সত্যের পরাকাষ্ঠা হতে হবে, যে সত্য তাকে মুনাফিকী আচরণ থেকে বিরত রাখবে ৷ মুনাফিকরাও 'লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ' এ কালেমা মুখে মুখে উচ্চারণ করে থাকে, কিন্তু এর নিগূঢ় তত্ত্ব ও প্রকৃত অর্থে তারা বিশ্বাসী নয় ৷
৫. আন্তরিকভাবে ভালোবাসা ৷ অর্থাৎ মুনাফেকী আচরণ পরিহার করে এই কালেমাকে সানন্দচিত্তে গ্রহণ করতে হবে ও আন্তরিকভাবে ভালোবাসতে হবে ৷
৬. আনুগত্য করা ৷ এই কালেমার দাবী অনুযায়ী তার হকগুলো আদায় করা ৷ আর তা হচ্ছে আল্লাহর জন্য নিষ্ঠা ও তাঁর সন্তুষ্টি লাভের জন্য ফরয-ওয়াজিব কাজগুলো যথাযথ পালন করা ৷
৭. আন্তরিকভাবে এ কালেমাকে কবুল করা এবং দ্বীনের কোনো কাজকে প্রত্যাখান করা থেকে নিজকে বিরত রাখা । অর্থাৎ আল্লাহর যাবতীয় আদেশ পালন করতে হবে এবং তাঁর নিষিদ্ধ সব কাজ পরিহার করতে হবে ৷
উপরোক্ত শর্তগুলো প্রখ্যাত আলেমগণ কোরআন ও হাদিসের আলোকে চয়ন করেছেন ৷ এ কালেমাকে শুধু মুখে উচ্চারণ করলেই যথেষ্ট এমন ধারণা সঠিক নয় ৷ অতএব, প্রত্যেকের উচিত কালেমার শর্তসমূহ পূরণের মাধ্যমে নিজেদের আমলকে সহিহ করা এবং দাওয়াহ সেক্টরে কালেমার সঠিক উদ্দেশ্য সম্পর্কে অন্যদের অবহিত করা ৷
লেখক: আবদুর রশীদ
Comments
Post a Comment