অভিশপ্ত শয়তানের আক্রমণ

 "অভিশপ্ত শয়তানের আক্রমণ"


মহান আল্লাহ তা'য়ালার সৃষ্টির মধ্যে অন্যতম সেরা সৃষ্টি হলো মানবজাতি ৷ মানবজাতির সষ্টির পূর্বে এবং পরে আরো অনেক কিছুর সূচনা করেন মহান আল্লাহ তা'য়ালা ৷ জ্বিন জাতি, মানবজাতি, পশু-পাখি, উদ্ভিদ ইত্যাদি সবকিছুর বিচরণ এই পৃৃথিবীর পিঠের উপর ৷ পৃথিবীতে প্রতিটি জিনিসের যেমন বন্ধু রয়েছে তেমনি শত্রুও রয়েছে ৷ এই পৃথিবীতে মানুষের শত্রুদের প্রসঙ্গে কথা বলা হলে প্রথম যার নাম উঠে আসবে সে হলো অভিশপ্ত শয়তান(ইবলীস) ৷ এটা কোনো মনগড়া উক্তি নয়; বরং এ বিষয়টা বিশ্ব প্রতিপালক স্বয়ং মহান আল্লাহ তা'য়ালাই মন্তব্য করেছেন ৷
আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, নিশ্চয় সে তোমাদের জন্য সুস্পষ্ট শত্রু । (সূরা বাকারাহ: ১৬৮, ২০৮; সূরা আন'আম: ১১২; সূরা ইউসুফ: ০৫; সূরা বনী ইসরাঈল: ৫৩; সূরা ফাত্বির: ০৬; সূরা ইয়া-সীন: ৬০; সূরা যুখরুফ: ৬২)

শয়তান প্রধান শত্রু হওয়ার কারণ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি জানা গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি ৷ শয়তান(ইবলীস) মূলত একটা জ্বিন ৷ সে ছিল একসময় ধার্মিক, ধূর্ত ও বুদ্ধিসম্পন্ন ৷ এমনকি সে জ্বিন জাতির একটা অংশ হওয়া সত্ত্বেও তার বসবাসও ছিল এক সময় ফেরেস্তাদের সঙ্গে ৷ যদিও তার ধার্মিকতা আর জ্ঞান-বুদ্ধির অন্তরালে ছিল অহঙ্কার এবং উচ্চাকাঙ্ক্ষা যার আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল আদম(আ:)-কে সিজদাহ করার ঘটনার মধ্য দিয়ে ৷

পবিত্র কুরআনে বর্ণিত হয়েছে, 

وَ اِذۡ قُلۡنَا لِلۡمَلٰٓئِکَۃِ اسۡجُدُوۡا لِاٰدَمَ فَسَجَدُوۡۤا  اِلَّاۤ  اِبۡلِیۡسَ ؕ اَبٰی وَ اسۡتَکۡبَرَ ٭۫ وَکَانَ مِنَ الۡکٰفِرِیۡنَ

"আর যখন আমি ফেরেশতাদেরকে বললাম, ‘তোমরা আদমকে সিজদা কর’ । তখন তারা সিজদা করল, ইবলীস ছাড়া । সে অস্বীকার করল এবং অহঙ্কার করল । আর সে হল কাফিরদের অন্তর্ভুক্ত ।" (সূরা আল-বাকারা: ৩৪; সূরা সোয়াদ: ৭৩-৭৪; সূরা আল-আরাফ: ১১; সূরা হিজর: ৩১; সূরা বনী ইসরাঈল: ৬১; সূরা কাহফ: ৫০; সূরা ত্ব-হা: ১১৬)

বিশ্ব প্রতিপালক মহান আল্লাহ তা'য়ালা যিনি সবকিছুর উপর ক্ষমতাবান, সবকিছুর উপর কর্তৃত্ব রাখেন, যার অধীনে সবকিছুই নিয়ন্ত্রিত এবং যিনি এই সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা ৷ সেই স্রষ্টার হুকুম সরাসরি অমান্য করে ক্ষমার পরিবর্তে জঘন্যতম স্পর্ধা দেখিয়ে উল্টো আল্লাহর নিকট যুক্তি প্রদর্শন করলেন ৷
পবিত্র কুরআনে এসেছে, মহান আল্লাহ তা'য়ালা বললেন, ‘কিসে তোমাকে বাধা দিয়েছে যে, সিজদা করছ না, যখন আমি তোমাকে নির্দেশ দিয়েছি’? সে বলল, ‘আমি তার চেয়ে উত্তম । আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন কাদামাটি থেকে’ । (সূরা আরাফ: ১২; সূরা হিজর: ৩২-৩৩; সূরা বনী ইসরাঈল: ৬১; সূরা সোয়াদ: ৭৫-৭৬)

এমন জঘন্য স্পর্ধা এবং অহঙ্কার যখন প্রকাশ করলেন সাথে সাথে স্বয়ং আল্লাহ তা'য়ালা তাকে অভিশপ্তদের অন্তর্ভুক্ত করে দিলেন ৷ অতঃপর আল্লাহ তা'য়ালা বললেন, "সুতরাং তুমি এখান থেকে নেমে যাও । তোমার এ অধিকার নেই যে, এখানে তুমি অহঙ্কার করবে । সুতরাং বের হও । নিশ্চয় তুমি লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত ।" (সূরা আল-আরাফ: ১৩; সূরা হিজর: ৩৪; সূরা সোয়াদ: ৭৭)

উক্ত অহঙ্কার প্রমাণ করেছিল যে, পূর্বে সে যত ইবাদত করেছিল এবং যত জ্ঞান অর্জন করেছিল তার সবটাই ছিল মিথ্যা যার পিছনে লুকায়িত ছিল তার অহঙ্কার আর উচ্চাকাঙ্ক্ষা ৷ যদি তার অহঙ্কার আর উচ্চাকাঙ্ক্ষা না থাকতো তাহলে কখনো ক্ষমার পরিবর্তে যুক্তি দেখাতো না ৷ যেমনটা হযরত আদম(আ:) ভুলের পর যুক্তি প্রদর্শন না করে সাথে সাথে অপরাধ স্বীকার করে মহান রবের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করেছিলেন ৷

আর আল্লাহ তা'য়ালা তাকে(শয়তান) লাঞ্ছিতদের অন্তর্ভুক্ত করার পর শয়তান(ইবলীস) মহান আল্লাহ তা'য়ালার কাছে অবকাশ চেয়ে বললেন, ‘সেদিন পর্যন্ত আমাকে অবকাশ দিন, যেদিন তাদেরকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে’ । তিনি বললেন, ‘নিশ্চয় তুমি অবকাশপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত’ ।
(সূরা আরাফ: ১৪-১৫; সূরা হিজর: ৩৬-৩৭; সূরা সোয়াদ: ৭৯-৮০)

অবশেষে আল্লাহ তা'য়ালা তাকে অবকাশ দিলেন কিয়ামত পর্যন্ত ৷ একবার চিন্তা করুন বিষয়টা, শয়তান এত বড় জঘন্য অপরাধ করার পর আল্লাহ চাইলে তাকে সাথে সাথে শাস্তি দিতে পারতেন ৷ কিন্তু তিনি তা করলেন না; বরং সে যেন ক্ষমা প্রার্থনা করে তার জন্য দয়াশীল হলেন ৷ যদি সে অপরাধ স্বীকার করে ক্ষমা চাইতেন মহান আল্লাহ তা'য়ালা তাকে সাথে সাথে ক্ষমা করে দিতেন ৷ এর প্রমাণ উপরোক্ত আয়াতেই রয়েছে ৷ সে আল্লাহর কাছে দোয়া করে আরজি করেছিলেন যেন তাকে কিয়ামত পর্যন্ত অবকাশ দেন আর আল্লাহ তা'য়ালা তার দোয়াটি কবুল করলেন এবং অবকাশ দিলেন ৷ যদি সে অবকাশের স্থলে অপরাধের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করতেন তাহলে তা হতো তার জন্য কল্যাণকর ৷

অভিশপ্ত শয়তান শুধু এতটুকুতে থেমে যায় নি; বরং মহান প্রতিপালক যিনি একমাত্র সবকিছু রাজত্বের অধিকারী স্বয়ং আল্লাহ তা'য়ালাকে দোষারোপ করেছেন এবং উল্টো চ্যালেঞ্জও করে বসলেন ৷ অতঃপর সে বলল, ‘আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, সে কারণে অবশ্যই আমি তাদের জন্য আপনার সোজা পথে বসে থাকব । (সূরা আরাফ: ১৬; সূরা হিজর: ৩৯; সূরা সোয়াদ: ৮২-৮৩)
সে অভিশপ্ত শয়তান আরো বললেন, ‘তারপর অবশ্যই তাদের নিকট উপস্থিত হব, তাদের সামনে থেকে ও তাদের পেছন থেকে এবং তাদের ডান দিক থেকে ও তাদের বাম দিক থেকে । আর আপনি তাদের অধিকাংশকে কৃতজ্ঞ পাবেন না’ । (সূরা আরাফ, আয়াত: ১৭)

শয়তান যখন আল্লাহকে বললেন যে, মানুষদের এক অংশ তার করে নিবে প্রতারণার মাধ্যমে ৷ মানুষকে ওয়াসওয়াসা দিবে চতুর্দিক থেকে যেন আল্লাহর প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে আর যেন বান্দাদের অধিকাংশই জাহান্নামের অধিবাসী হয়ে যায় ৷ প্রতিটি স্তরে স্তরে সে ওত পেতে বসবে মানুষকে বিপথগামী করতে ৷ অতঃপর আল্লাহ তা'য়ালা তার প্রতি উত্তরে ধিক্কার দিয়ে ও কঠিন হুশিয়ারি করে বললেন, ‘তুমি এখান থেকে বের হও লাঞ্ছিত বিতাড়িত অবস্থায় । অবশ্যই তাদের মধ্য থেকে যে তোমার অনুসরণ করবে, আমি তোমাদের সবাইকে দিয়ে জাহান্নাম ভরে দেবই’ । (সূরা আরাফ: ১৮; সূরা সোয়াদ: ৮৫)
‘আর নিশ্চয় কিয়ামত দিবস পর্যন্ত তোমার উপর লা‘নত’। (সূরা হিজর: ৩৫; সূরা সোয়াদ: ৭৮)

ফলে সে হয়ে যায় মানুষের প্রধান শত্রু ৷ এমন শত্রু যার প্ররোচনায় মানুষের জীবন এক বিরাট পরীক্ষার সম্মুখিন হয়ে দাঁড়িয়েছে ৷ যে পরীক্ষার ফলাফল হয়তো জান্নাত, নয়তো জাহান্নামের ঠিকানা চিহ্নিত হবে ৷

অভিশপ্ত শয়তানের প্রথম আক্রমণের সূচনা:
মহান আল্লাহ তা'য়ালা শয়তানকে অভিশপ্ত ঘোষণার পর আমাদের আদি পিতা, প্রথম মানব ও প্রথম নবী হযরত আদম(আ:)-কে তার স্ত্রী হাওয়া(আ:) সহ জান্নাতে বসবাস করার নির্দেশ দিলেন এবং একটি নির্দিষ্ট বৃক্ষের ফল খাওয়া থেকে বিরত থাকার আদেশ করলেন ৷
অতঃপর শয়তান একটা সময় তাদের [আদম ও হাওয়া(আ)]-কে প্ররোচনা দিতে সক্ষম হন এবং উভয়-ই জান্নাতের সেই নিষিদ্ধ ফল খেয়ে ফেলে ৷ ফলে তাঁরা বস্ত্রহীন হয়ে পড়লেন ৷ যার ফলাফল দাঁড়িয়েছে একটি নির্দিষ্টকাল পর্যন্ত জান্নাত থেকে বহিষ্কার এবং দুনিয়ায় অবস্থানের জন্য প্রেরণ ৷

পবিত্র কুরআনে ঘটনাটি বর্ণিত হয়েছে ৷ আল্লাহ তা'য়ালা বললেন, "আর হে আদম, তুমি ও তোমার স্ত্রী জান্নাতে বাস কর । অতঃপর তোমরা আহার কর যেখান থেকে চাও এবং এই গাছটির নিকটবর্তী হয়ো না । তাহলে তোমরা উভয়ে যালিমদের অন্তর্ভুক্ত হবে । অতঃপর শয়তান তাদেরকে প্ররোচনা দিল, যাতে সে তাদের জন্য প্রকাশ করে দেয় তাদের লজ্জাস্থান, যা তাদের থেকে গোপন করা হয়েছিল এবং সে বলল, তোমাদের রব তোমাদেরকে কেবল এ জন্য এ গাছ থেকে নিষেধ করেছেন যে, (খেলে) তোমরা ফেরেশতা হয়ে যাবে অথবা তোমরা চিরস্থায়ীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে । আর সে তাদের নিকট শপথ করল যে, ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের উভয়ের জন্য কল্যাণকামীদের একজন । অতঃপর সে তাদেরকে প্রতারণার মাধ্যমে পদস্খলিত করল । তাই তারা যখন গাছটির ফল আস্বাদন করল, তাদের সামনে তাদের লজ্জাস্থান প্রকাশিত হয়ে গেল । আর তারা জান্নাতের পাতা দিয়ে নিজদেরকে ঢাকতে লাগল এবং তাদের রব তাদেরকে ডাকলেন যে, আমি কি তোমাদেরকে ঐ গাছটি থেকে নিষেধ করিনি এবং তোমাদেরকে বলিনি যে নিশ্চয় শয়তান তোমাদের জন্য স্পষ্ট শত্রু?" (সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ১৯-২২)
অতঃপর আল্লাহ তা'য়ালা বললেন, 'তোমরা নেমে যাও । তোমরা একে অপরের শত্রু । আর তোমাদের জন্য যমীনে রয়েছে নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত আবাস ও ভোগ-উপকরণ’ । (সূরা বাকারাহ, আয়াত: ৩৬)

আদম(আ:)-কে প্রতারণার বিশেষ তিনটি শয়তানের ফাঁদ: ১) ফেরেস্তা হয়ে যাওয়ার আশ্বাস ৷ ২) চিরস্থায়ী হয়ে যাওয়ার আশ্বাস এবং ৩) প্রথম দুটি ফাঁদের উপর বিশ্বস্ততা বাড়াতে "কল্যাণকামীদের একজন" বলে মিথ্যা শপথ গ্রহণ ৷
অবশেষে শুরু হয়ে যায় আদম সন্তানদের উপরও অভিশপ্ত শয়তানের অভিনব কায়দা অবলম্বনে প্রতারণার আক্রমণ ৷ যেভাবে আমাদেরকে শয়তান কুমন্ত্রণা, প্রতারণা ও প্ররোচনার মাধ্যমে আক্রমণ করে তার কিছু ধরন নিম্নে আলোকপাত করার চেষ্টা করছি ৷


প্রথম পয়েন্ট:
মদ ও জুয়ার মাধ্যমে প্রতারণা ৷ মদ হলো অপরাধের শীর্ষে অবস্থান করা অন্যতম একটি ৷ এটি এমন পানীয় যা ধারণ করলে শুরু হয়ে যায় বিবেকহীনতা ৷ যার ফলে স্ত্রীকে ডাকে মা এবং মাকে ডাকে স্ত্রী, বাপকে ডাকে শশুড় এবং শশুড়কে ডাকে বাপ ৷ মদ মূলত যিনা বা ব্যয়ভিচার করার চেয়েও জঘন্য ৷ কারণ তা বিবেককে নষ্ট করে দেই এবং চিন্তা-চেতনাকে হরণ করে ৷ এমনকি অবচেতন অবস্থায় মারাত্মক গর্হিত কাজেও লিপ্ত হয়ে পড়ে ৷ যেমন- মাতাল অবস্থায় খুন, ধর্ষন ইত্যাদি সংঘটিত হওয়ার সবচেয়ে বেশি প্রবনতা লক্ষ করা যায় ৷ এই জন্য শয়তান এই নেশার মাধ্যমে মানুষকে এমনভাবে উৎসাহ দিয়ে বলে যে, আরে এটাতো স্রেফ পানির মতো, একটু খেলে আর কি হবে ৷ অনেকদিন পানির স্বাদ নিয়েছো ৷ এখন একটু অন্য জগত থেকে ঘুরে আসো ইত্যাদি প্ররোচনার জালে বন্ধি করে যেন মদ খাওয়ার মধ্য দিয়ে আরো অনেক অপরাধের শিকারে পরিণত করতে পারে ৷

আর জুয়া একটা অন্যতম নেশার অংশ ৷ জুয়ার বিভিন্ন ধরন ও পর্যায় রয়েছে ৷ ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে জুয়ার আসর হয় ৷ জুয়া এমন একটা নেশা যদি প্রথম জিতে যায় তাহলে অনেক অর্থ কিংবা সম্পদের অধিকারী হয় ৷ এর সুযোগ কাজে লাগিয়ে শয়তান প্ররোচনা দিয়ে বলে যে, তুমি আরো খেলো ৷ হয়তো তুমি আবার জিতবে এবং আরো অনেক অর্থের অধিকারী হবে ৷ অতঃপর যখন পুনরায় জুয়ার আসরে বসে তখন মুনাফা সহ নিজের আসল পর্যন্ত হারিয়ে বসে ৷ কিন্তু শয়তান বসে থাকে না, সে আসে এবং আবার বলতে থাকে যে, আরে একবার হারছো তো কি হয়েছে? হার-জিত সবকিছুতে থাকে ৷ সুতরাং ভেঙ্গে পড়লে চলবে না ৷ তুমি আবার চেষ্টা করো হয়তো তুমি এবার জিতবে ৷ ফলে প্ররোচিত হতে হতে এবং জুয়ার আসরে সবকিছু হারাতে হারাতে নিঃস্ব হয়ে পড়ে ৷ সংসার ধ্বংস হয়ে যায় ৷ অর্থের তাড়নায় শুরু করে স্ত্রীর উপর অমানবিক নির্যাতন ৷ বাড়ি-ঘর ও জায়গা-জমি হারিয়ে সর্বশেষ অসহায় হয়ে পড়ে থাকে ৷ অবশেষে আত্মহত্যার পথও অনেকে বেছে নেই ৷

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মদ ও জুয়া আল্লাহর স্বরণ ভুলে দেই ৷ এই জন্য আল্লাহ তা'য়ালা পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেছেন,
"হে মুমিনগণ, নিশ্চয় মদ, জুয়া, প্রতিমা-বেদী ও ভাগ্যনির্ধারক তীরসমূহ তো নাপাক শয়তানের কর্ম । সুতরাং তোমরা তা পরিহার কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও । শয়তান শুধু মদ ও জুয়া দ্বারা তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সঞ্চার করতে চায় । আর (চায়) আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে তোমাদের বাধা দিতে । অতএব, তোমরা কি বিরত হবে না ?" (সূরা মায়িদাহ, আয়াত: ৯০-৯১)


দ্বিতীয় পয়েন্ট:
দারিদ্রতার মাধ্যমে প্ররোচনা ৷ শয়তান দারিদ্রতার ভয় দেখিয়ে প্ররোচনা দিয়ে বলে যে, তুমি দরিদ্র এবং কিভাবে তোমার সন্তান-সন্ততিদের খাওয়াবে ও পড়াবে? সুতরাং বেশি সন্তান গ্রহণ করো না ৷ তবে পরস্পর মিলন করো "অজল" করে কিংবা বিশেষ জন্মনিয়ন্ত্রনের মাধ্যমে ৷ শয়তান যে প্রতিশ্রুতি দেই তা হলো হারাম ও নিষিদ্ধ পথের ৷ একটা হালাল সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও হালালের মধ্যে পার্থক্যের সৃষ্টি সূচনার মাধ্যমে শয়তান হারামের সংমিশ্রণ ঘটিয়ে অশ্লীলতার দিকে ধাবিত করে ৷ এই জন্য আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, "শয়তান তোমাদেরকে দরিদ্রতার প্রতিশ্রুতি দেয় এবং অশ্লীল কাজের আদেশ করে । আর আল্লাহ তোমাদেরকে তার পক্ষ থেকে ক্ষমা ও অনুগ্রহের প্রতিশ্রুতি দেন । আর আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ ।" (সূরা বাকারাহ, আয়াত:২৬৮)

তৃতীয় পয়েন্ট:
একটি পরিবারে তখন আশান্তির সূচনা হয় যখন ভাইয়ের মধ্যে ভাইয়ের সম্পর্ক বিনষ্ট হয় ৷ এটা হওয়ার অনেক কারণ নিহিত থাকে ৷ শয়তান যেভাবে হযরত ইউসুফ(আ:) ও তাঁর ভাইদের মধ্যে সম্পর্ক বিনষ্ট করেন ৷ আল্লাহ বলেন, "শয়তান ভাইয়ের মধ্যে সম্পর্ক বিনষ্ট করেন ৷" (সূরা ইউসুফ, আয়াত: ১০০)
আল্লাহ তা'য়ালা পরিবারের যে কারো আয়ের মাধ্যমে বাকি সদস্যদের রিজিকের ব্যবস্থা করেন ৷ তাই পরিবারের যে সদস্য ভালো আয় করে তার এটা ভাবা উচিত নয় যে, আমি সবকিছু করি, আমার উপার্জনের টাকা সব এবং আমার জন্য তাদের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে ইত্যাদি ৷ মূলত এ ধরনের মনোভাব অন্তরে শয়তান সৃষ্টি করে থাকে ৷ আল্লাহ চাইলে অন্যের মাধ্যমেও সবার রিজিকের ব্যবস্থা করতে পারতেন ৷ সুতরাং অহঙ্কার করার কোনো অর্থ নেই ৷ শয়তান বিভিন্ন খুঁত প্রদর্শন করে ভাই-ভাইয়ের মধ্যে ঝগড়ার বাঁধ বেধে দিতে পারে ৷ বিশেষ করে যখন ঘরে স্ত্রী থাকে তখন এর মাত্রা আরো তীব্রতর রূপ নিয়ে থাকে ৷ কারণ মেয়েরাই হলো শয়তানের আসল হাতিয়ার এবং তাদের ব্যবহার করেই পরিবারে আঘুনের তুফান বয়ে দেই ৷

চতুর্থ পয়েন্ট:
অপব্যয় শয়তানের অন্যতম নিকৃষ্ট কর্ম ৷ সাধারণত অর্থ ব্যয়, খাদ্য ও পানীয় পান, সময় ইত্যাদি সর্বক্ষেত্রে অপচয়ের মাত্রা লক্ষণীয় ৷ পান করার শেষে কিছু রেখে দেওয়া, খাবার গ্রহণের শেষে পরিষ্কার করে না খেয়ে অবশিষ্ট কিছু রেখে দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় কাজে অর্থ ব্যয় ও অবসর সময়কে কাজে না লাগিয়ে সময় নষ্ট করা ইত্যাদি সবকিছুই শয়তানের অপকর্ম ৷ এইগুলো মূলত শয়তানের চারিত্রিক গুণাবলির অংশ ৷ এই জন্য আল্লাহ বলেন, "নিশ্চয় অপব্যয়কারীরা শয়তানের ভাই । আর শয়তান তার রবের প্রতি খুবই অকৃতজ্ঞ ।" (সূরা বনী ইসরাঈল, আয়াত: ২৭)

পঞ্চম পয়েন্ট:
অনেকে নেশা করে কিংবা ধুমপান করে এবং অশ্লীলতার মধ্যে গড়াগড়ি করে ৷ কিন্তু মাঝেমধ্যে নামায আরম্ভ করতে চাইলে শয়তান তাদেরকে এমনভাবে ধোকা দেই যেন তারা নামায থেকে বিরত হয় ৷ সে বলে, তুমি এখন মদ পান করেছো, গাঁজা খেয়েছো ও ধুমপান করেছো ৷ তোমার লজ্জা হয় না তুমি এখন নামাজ পড়বে? তোমার মুখ থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে এবং তুমি মসজিদে গেলে লোকেরা তোমাকে ছি-ছি করবে ৷ এমনকি তোমার দিকে ঘৃণার চোখেও তাকাবে ইত্যাদি ৷ তুমি বরং কিছুক্ষণ রেস্ট নাও এবং অন্যকিছু পান করো ৷ যখন মুখের দুর্গন্ধ চলে যাবে তখন পড়ে নিও ৷ মসজিদে পড়তে না পারলে কি হবে বাড়িতে হলেও পড়ে নিবে আরকি ৷ ফলে নামাযের ওয়াক্ত পর্যন্ত গড়িয়ে যায় আর নামায পড়া হয় না ৷ এই ধরনের মিথ্যা আশ্বাস ও প্ররোচনার মাধ্যমে শয়তান মানুষকে নামায থেকে বিরত রাখে ৷

কারো যাকাত আদায়ের সময় হলে শয়তান দুশ্চিন্তা নিয়ে উপস্থিত হয় এবং বলে, তুমি অনেক কষ্টের বিনিময়ে অর্থ উপার্জন করেছো এবং তা সঞ্চয় করেছো অতি যত্নে ৷ আর এখন কিনা বিনা কারণে তোমার উপার্জিত টাকার কিছু অন্যের হাতে দিয়ে দিবে ৷ তোমার কি মাথা খারাপ হয়েছে? আচ্ছা, যাক যদি দিতে চাও তাহলে আরো কিছু অর্থ উপার্জন করো এবং পরের বছর ভালো করে দান করিও ৷ শয়তান এইভাবে পরের বছরও একই ধোকার শিকার করে ৷ ১০ হাজার টাকা যাকাত প্রদান করাতে তার দুশ্চিন্তা এমনভাবে শয়তান বাড়িয়ে দেই যেন ১০ লাখ টাকার মাথাব্যথা শুরু হয় ৷

ফজরের এলার্ম বেজে উঠলে শয়তান বলে আরো অনেক সময় রয়েছে, উঠবে আরকি ৷ আর পাঁচ মিনিট রেস্ট নাও ৷ ফলে পাঁচ মিনিট হয়ে যায় সকাল দশটা ৷
যখন ফজরের নামাজ মিস হয় তখন শয়তান যোহরের সময় হলে বলে, আজ ফজর মিস করেছো ৷ এখন ভাঙ্গাচুরা কি নামায পড়বে ! সুতরাং আগামিকাল থেকে নতুন করে শুরু করিও ৷ এভাবে শয়তান আসর, মাগরিব ও এশা নামাযও কাজা করাই ৷

কোনো আড্ডায় কিংবা কোনো উৎফুল্ল আলোচনায় ডুবন্ত থাকলে এবং নামাযের সময় উপস্থিত হলে তখন আলোচনার আনন্দ আরো দ্বিগুণ বৃদ্ধি পায় ৷ ফলে মসজিদের দিকে পা এগিয়ে যায় না যেন পেছন দিক থেকে কেউ ঠেনে রাখে ৷ অতঃপর যখন কোনো মুসল্লি পথ দিয়ে হেঠে যায় এবং আহ্বান করে নামাযের তখন শয়তান প্ররোচনা দিতে শুরু করে এবং সন্দেহের জাল বুনে অন্তরে ৷ আর বলে, তুমি এখন পস্রাব করতে গিয়ে ভালো করে পরিষ্কার হওনি কিংবা তোমার কাপড় অপবিত্র ৷ সুতরাং নামায পড়লে হবে না ইত্যাদি প্ররোচনার ফলে অনেকেই নামাযে উপস্থিত হয় না ৷

কোনো খারাপ চরিত্র ত্যাগ করতে চাইলে তখন শয়তানের তৎপরতা আরো বৃদ্ধি পেতে থাকে ৷ যেমন- আগে অশালীন মুভি দেখতে কিংবা গান শুনতে এবং তা এখন পরিত্যাগ করছো ৷ দেখবে, দু'দিন অতিবাহিত হতে না হতেই সেই মুভি দেখা কিংবা গান শুনার তীব্রতা আগের চেয়ে পাঁচগুণ বেড়ে গেছে ৷ মূলত এই তীব্রতা হলো শয়তানের প্ররোচনা ৷ এরূপ ভালো কাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে শয়তান বাধা সৃষ্টি করে ৷

এই জন্য আল্লাহ তা'য়ালা আমাদেরকে উপদেশ দিয়ে বলেন, "হে বনী আদম, শয়তান যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত না করে, যেভাবে সে তোমাদের পিতা-মাতাকে জান্নাত থেকে বের করেছিল ৷ (সূরা আরাফ, আয়াত: ২৭)
"হে মুমিনগণ, তোমরা শয়তানের পদাঙ্কসমূহ অনুসরণ করো না । আর যে শয়তানের পদাঙ্কসমূহ অনুসরণ করবে, নিশ্চয় সে অশ্লীলতা ও মন্দ কাজের নির্দেশ দেবে ।" (সূরা নূর, আয়াত: ২১)

শয়তানকে যেভাবে পরাজিত করবেন:
তোমার মাধ্যমে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে গেলে সাথে সাথে সে অপরাধের ক্ষতিপূরণে তুমি আরো ভালো কর্মে নিয়োজিত হয়ে যাও ৷ ধরুন, ফজর নামাজ মিস করলেন ৷ ফজর মিস হওয়াতে আল্লাহর নিকট ক্ষমা চাইতে থাকুন বারবার এবং নফল নামায পড়ুন বেশি করে ৷ কুরআন পাঠ আগে এক পৃষ্টা পড়লে, এখন দুই পৃষ্টা পড়ুন ৷ অর্থাৎ আমল বাড়িয়ে দিন ৷ দেখবেন শয়তান পরবর্তীতে একটু কমই প্ররোচনা দিচ্ছে ৷ কারণ একটা ক্ষতি করতে গিয়ে যদি পাঁচটা ভালো কর্ম বেড়ে যায় তাহলে শয়তান নিশ্চয় তা চাইবে না ৷

যখন শয়তান কোনো খারাপ কাজের দিকে অগ্রসর করাবে তখন একটু স্থির হোন এবং দুটো অপশন সামনে দাঁড় করান ৷ অতঃপর যে কোনো একটিকে নিজের জন্য বাচাঁই করুন ৷ যথা: ১) তুমি কি আল্লাহ তা'য়ালাকে খুশি করবে? নাকি ২) শয়তানকে খুশি রাখবে ৷ দেখবে, তুমি আল্লাহকে বাদ দিয়ে শয়তানের দিকে অগ্রসর হচ্ছো না ৷ তোমার সত্যই ঈমান ও প্রচেষ্টা থাকলে তুমি অন্যায় থেকে বিরত থাকতে সক্ষম হবে, ইনশা'আল্লাহ ৷ অপরাধ সংঘটিত হওয়ার মুহূর্তে যদি আল্লাহকে স্মরণ করতে পারো, তোমাকে আল্লাহ তা'য়ালা অপরাধ থেকে বিরত থাকার পথ বের করে দিবে ৷ আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, "নিশ্চয় যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে যখন তাদেরকে শয়তানের পক্ষ থেকে কোন কুমন্ত্রণা স্পর্শ করে তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে । তখনই তাদের দৃষ্টি খুলে যায় ।" (সূরা আরাফ, আয়াত: ২০১)
আর যদি শয়তানের পক্ষ হতে কোন প্ররোচনা তোমাকে প্ররোচিত করে, তবে তুমি আল্লাহর আশ্রয় চাও। নিশ্চয় তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ। (সূরা আরাফ, আয়াত: ২০০)

প্রতিটি মুহূর্তে স্মরণ রাখবে এবং ভুলো না যে, শয়তান সবচেয়ে বড় প্রতারক ৷ আল্লাহ বলেন, "আর শয়তান তো মানুষের জন্য চরম প্রতারক ।" (সূরা ফুরকান: ২৯; সূরা ফাত্বির: ০৫)


শয়তানের দূর্বলতা:
শয়তানের ফাঁদ ও তার প্রচেষ্টা অত্যন্ত দূর্বল ৷ আল্লাহ তা'য়ালা শয়তানের ওয়াসওয়াসা দেওয়ার সামর্থ্য সংক্রান্ত তথ্য দিতে পবিত্র কুরআনে তিনি "ফি কুলুবিহিম" শব্দ ব্যবহার না করে "ফি সুদুরিহিম" শব্দটি ব্যবহার করেছেন ৷ এর অর্থ হলো সে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দিতে পারে না; বরং বুকের উপর ফিসফিস করতে পারে ৷ অর্থাৎ- বুকের উপর খোঁচাতে পারে; অন্তরে নয় ৷ সুতরাং তাকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ না করলে সে কখনো মানুষের কিছুই করতে পারে না ৷ তাই আল্লাহ তা'য়ালা ইরশাদ করেছেন, "নিশ্চয় যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের রবের উপর তাওয়াক্কুল করেছে, তাদের উপর শয়তানের কোন ক্ষমতা নেই । তার ক্ষমতা তো কেবল তাদের উপর, যারা তাকে অভিভাবকরূপে গ্রহণ করে এবং যারা আল্লাহর সাথে শরীক করে ।" (সূরা নাহল, আয়াত: ৯৯-১০০; সূরা হিজর: ৪২; সূরা বনী ইসরাঈল: ৬৫)

তুমি যত বড় পাপি হও আর যতই নিকৃষ্ট হও না কেন হতাশ হয়ো না ৷ কারণ আল্লাহর নিকট সেই বেশি প্রিয় যে ব্যক্তি অপরাধের পর অনুশোচনা করে এবং আল্লাহর নিকট তাওবা ইস্তিগফার করে ৷ সুতরাং অনন্যচিত্তে আল্লাহর নিকট তাওবা করুন ৷ তিনি তাওবা কবুলকারী ৷ অবশ্যই তিনি তোমাকে ক্ষমা করবেন ৷ শয়তান তোমাকে ধোকা দিচ্ছে এই বলে যে, তুমি এত পাপি, তোমার পাপের কোনো সীমা নেই ৷ আর তুমি কিনা এই অপরাধ নিয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইবে ? তোমার কি লজ্জা বলতে কিছুই নেই? ইত্যাদি হতাশার জাল বুনে অন্তরে ৷ সুতরাং তা উপেক্ষা করে আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পন করো ৷ ইনশা'আল্লাহ, তুমিই হবে আল্লাহর নিকট সবচেয়ে প্রিয় বান্দা ৷

শয়তানের যাবতীয় ফাঁদ ও তার কার্যকলাপ এবং গোপন তথ্য সবকিছু পবিত্র কুরআনেই লিপিবদ্ধ রয়েছে ৷ তাই, আমাদের উচিত নিয়মিত একটি করে হলেও কুরআনের আয়াত অর্থসহ তাফসীর পড়া ৷ যাতে আমাদের ঈমান শক্ত হয় এবং আল্লাহর আরো নিকটবর্তী হতে পারি ও শয়তানের ফাঁদ থেকে বেঁচে থাকতে পারি ৷ আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, "যখন তুমি কুরআন পড়বে তখন আল্লাহর কাছে বিতাড়িত শয়তান হতে পানাহ চাও ।" (সূরা নাহল, আয়াত: ৯৮)

অতঃপর শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে আশ্রয় চেয়ে আল্লাহর শিখানো ভাষায় সবাই নিয়মিত প্রার্থনা করার চেষ্টা করি, "হে আমার রব, আমি শয়তানের প্ররোচনা থেকে আপনার কাছে পানাহ চাই ।" (সূরা মু'মিনুন, আয়াত: ৯৭; সূরা ফুসসিলাত, আয়াত: ৩৬)

লেখক: আবদুর রশীদ

Comments