কুরআন

নিম্নোক্ত চারটি বিষয়ের উপর পবিত্র কুরআনে উল্লেখিত আয়াতসমূহ ৷



(1) ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা ৷
(2) কোন পথ অনুসরণীয়?
(3) বাপ-দাদার অনৈসলামিক কর্ম অনুসরণ নিষিদ্ধ ৷
(4) আল্লাহ কর্তক পরীক্ষা ৷




(1)
===================================
(ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা)

ইসলাম একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থা ৷ এতে কোনো বিষয় বাদ রাখেনি মহান আল্লাহ তা'আলা ৷ মানব জাতির জন্য এটিই একমাত্র পথ যাতে রয়েছে সবকিছুর সমাধান দ্বারা পরিপূর্ণ ৷ এর বাহিরে কোনোরূপ বানানো বিষয় গ্রহণযোগ্য হবে না ৷ তাই দলিল হিসেবে একমাত্র কুরআন-হাদীসই গ্রহণযোগ্য ৷ এই বিষয়ে আল্লাহ তা'আলা বলেন—

(*) يٰٓأَيُّهَا الَّذِينَ ءَامَنُوا ادْخُلُوا فِى السِّلْمِ كَآفَّةً وَلَا تَتَّبِعُوا خُطُوٰتِ الشَّيْطٰنِ ۚ إِنَّهُۥ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ

হে মুমিনগণ, তোমরা ইসলামে পূর্ণরূপে প্রবেশ কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না । নিশ্চয় সে তোমাদের জন্য স্পষ্ট শত্রু। (সূরা-বাকারাহ:২০৮)

(*) وَمَن يَبْتَغِ غَيْرَ الْإِسْلٰمِ دِينًا فَلَن يُقْبَلَ مِنْهُ وَهُوَ فِى الْءَاخِرَةِ مِنَ الْخٰسِرِينَ

আর যে ইসলাম ছাড়া অন্য কোন দীন চায় তবে তার কাছ থেকে তা কখনো গ্রহণ করা হবে না এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। (সূরা-আল-ইমরান:৮৫)

(*) إِنَّ الدِّينَ عِندَ اللَّهِ الْإِسْلٰمُ ۗ وَمَا اخْتَلَفَ الَّذِينَ أُوتُوا الْكِتٰبَ إِلَّا مِنۢ بَعْدِ مَا جَآءَهُمُ الْعِلْمُ بَغْيًۢا بَيْنَهُمْ ۗ وَمَن يَكْفُرْ بِـَٔايٰتِ اللَّهِ فَإِنَّ اللَّهَ سَرِيعُ الْحِسَابِ

নিশ্চয় আল্লাহর নিকট দীন হচ্ছে ইসলাম। আর যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে, তাদের নিকট জ্ঞান আসার পরই তারা মতানৈক্য করেছে, পরস্পর বিদ্বেষবশত। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর আয়াতসমূহের সাথে কুফরী করে, নিশ্চয় আল্লাহ হিসাব গ্রহণে দ্রুত। (সূরা-ইমরান:১৯)

(*) الْيَوْمَ أَكْمَلْتُ لَكُمْ دِينَكُمْ وَأَتْمَمْتُ عَلَيْكُمْ نِعْمَتِى وَرَضِيتُ لَكُمُ الْإِسْلٰمَ دِينًا

আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দীনকে পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের উপর আমার নিআমত সম্পূর্ণ করলাম এবং তোমাদের জন্য দীন হিসেবে পছন্দ করলাম ইসলামকে। (সূরা-মায়িদাহ:০৩)

(*) وَنَزَّلْنَا عَلَيْكَ الْكِتٰبَ تِبْيٰنًا لِّكُلِّ شَىْءٍ وَهُدًى وَرَحْمَةً وَبُشْرٰى لِلْمُسْلِمِينَ

আর আমি তোমার উপর কিতাব নাযিল করেছি প্রতিটি বিষয়ের স্পষ্ট বর্ণনা, হিদায়াত, রহমত ও মুসলিমদের জন্য সুসংবাদস্বরূপ। (সুরা-নাহল:৮৯)

(*) نَزَّلَ عَلَيْكَ الْكِتٰبَ بِالْحَقِّ مُصَدِّقًا لِّمَا بَيْنَ يَدَيْهِ وَأَنزَلَ التَّوْرٰىةَ وَالْإِنجِيلَ

তিনি তোমার উপর কিতাব নাযিল করেছেন যথাযথভাবে, এর পূর্বে যা এসেছে তার সত্যায়নকারী হিসেবে এবং নাযিল করেছেন তাওরাত ও ইনজীল। (সূরা-ইমরান:০৩)

(*) وَمَا كَانَ هٰذَا الْقُرْءَانُ أَن يُفْتَرٰى مِن دُونِ اللَّهِ وَلٰكِن تَصْدِيقَ الَّذِى بَيْنَ يَدَيْهِ وَتَفْصِيلَ الْكِتٰبِ لَا رَيْبَ فِيهِ مِن رَّبِّ الْعٰلَمِينَ

এ কুরআন তো এমন নয় যে, আল্লাহ ছাড়া কেউ তা রচনা করতে পারবে; বরং এটি যা তার সামনে রয়েছে, তার সত্যায়ন এবং কিতাবের বিস্তারিত ব্যাখ্যা, যাতে কোন সন্দেহ নেই, যা সৃষ্টিকুলের রবের পক্ষ থেকে। (সূরা-ইউনুস:৩৭)

(*) الٓر ۚ كِتٰبٌ أَنزَلْنٰهُ إِلَيْكَ لِتُخْرِجَ النَّاسَ مِنَ الظُّلُمٰتِ إِلَى النُّورِ بِإِذْنِ رَبِّهِمْ إِلٰى صِرٰطِ الْعَزِيزِ الْحَمِيدِ

আলিফ-লাম-রা; এই কিতাব, যা আমি তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তুমি মানুষকে তাদের রবের অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আন, পরাক্রমশালী সর্বপ্রশংসিতের পথের দিকে। (সূরা-ইব্রাহীম:০১)

(*) ذٰلِكَ الْكِتٰبُ لَا رَيْبَ ۛ فِيهِ ۛ هُدًى لِّلْمُتَّقِينَ

এই সেই কিতাব, যাতে কোন সন্দেহ নেই, মুত্তাকীদের জন্য হিদায়াত। (সূরা-বাকারাহ:০২)

(*) تَنزِيلُ الْكِتٰبِ لَا رَيْبَ فِيهِ مِن رَّبِّ الْعٰلَمِينَ

এ কিতাব সৃষ্টিকুলের রবের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ, এতে কোন সন্দেহ নেই। (সূরা-সাজদাহ:০২)

(*) مَّا فَرَّطْنَا فِى الْكِتٰبِ مِن شَىْءٍ

আমি কিতাবে কোনো বিষয়ই লিপিবদ্ধ করতে বাদ রাখিনি ৷ (সূরা-আন'আম:৩৮)



(2)
===================================
(কোন পথ অনুসরণীয়?)


মহান আল্লাহ তা'আলা আমাদের আদেশ দিয়ে বলেছেন যে, তিনি যা নাযিল করেছেন তার অনুসরণ করতে এবং শয়তানের পথ থেকে বিরত থাকতে ৷ অন্যথায়, পরকালে ক্ষতিগ্রস্থদের অন্তর্ভুক্ত হতে হবে যার শেষ ঠিকানা হবে একমাত্র জাহান্নাম ৷ এই বিষয়ে আল্লাহ বলেন—

(*) اتَّبِعُوا مَآ أُنزِلَ إِلَيْكُم مِّن رَّبِّكُمْ وَلَا تَتَّبِعُوا مِن دُونِهِۦٓ أَوْلِيَآءَ ۗ قَلِيلًا مَّا تَذَكَّرُونَ

তোমাদের প্রতি তোমাদের রবের পক্ষ থেকে যা নাযিল করা হয়েছে, তা অনুসরণ কর এবং তাকে ছাড়া অন্য অভিভাবকের অনুসরণ করো না। তোমরা সামান্যই উপদেশ গ্রহণ কর। (সূরা-আরাফ:০৩)

(*) وَلَا تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِۦ عِلْمٌ ۚ إِنَّ السَّمْعَ وَالْبَصَرَ وَالْفُؤَادَ كُلُّ أُولٰٓئِكَ كَانَ عَنْهُ مَسْـُٔولًا

আর যে বিষয় তোমার জানা নাই তার অনুসরণ করো না। নিশ্চয় কান, চোখ ও অন্তকরণ- এদের প্রতিটির ব্যাপারে সে জিজ্ঞাসিত হবে। (সূরা-বনী-ইসরাইল:৩৬)

(*) فَسْـَٔلُوٓا أَهْلَ الذِّكْرِ إِن كُنتُمْ لَا تَعْلَمُونَ

সুতরাং জ্ঞানীদের জিজ্ঞাসা কর, যদি তোমরা না জানো। (সূরা-নাহল:৪৩)



(3)
===================================
(বাপ-দাদার অনৈসলামিক কর্ম অনুসরণ নিষিদ্ধ)


কিছু কাটমোল্লাহ আর কিছু দূষিত নামধারী মুসলিম নতুন নতুন বিদয়াত ইসলামের মধ্যে চালু করছে ৷ সমাজে কিছু মুরব্বী টাইপের লোকগুলো কাফের-মুশরিকদের মত বাপ-দাদারা যা করছে তা নিয়ে পড়ে থাকে ৷ তাদের একমাত্র দলিল বাপ-দাদার কিচ্ছা-কাহিনী ও তাদের কর্মগুলো ৷

অমুসলিমরা তাদের বাপ-দাদার ধর্মের অনুসরণ করে আর যুক্তি হিসেবেও তা পেশ করে থাকেন ৷ এই হিসেবে যে কোনো মুসলিমও ইসলাম বিরোধী কর্ম সম্পাদনে বাপ-দাদাদের কিচ্ছা-কাহিনীকে দলিল হিসেবে পেশ করে থাকে, তাদের বিষয়ে আল্লাহ বলেন—

(*) وَإِذَا قِيلَ لَهُمُ اتَّبِعُوا مَآ أَنزَلَ اللَّهُ قَالُوا بَلْ نَتَّبِعُ مَآ أَلْفَيْنَا عَلَيْهِ ءَابَآءَنَآ ۗ أَوَلَوْ كَانَ ءَابَآؤُهُمْ لَا يَعْقِلُونَ شَيْـًٔا وَلَا يَهْتَدُونَ

আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘তোমরা অনুসরণ কর, যা আল্লাহ নাযিল করেছেন’, তারা বলে, ‘বরং আমরা অনুসরণ করব আমাদের পিতৃ-পুরুষদেরকে যার উপর পেয়েছি’। যদি তাদের পিতৃ-পুরুষরা কিছু না বুঝে এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত না হয়, তাহলেও কি? (সূরা-বাকারা:১৭০)

(*) وَإِذَا قِيلَ لَهُمْ تَعَالَوْا إِلٰى مَآ أَنزَلَ اللَّهُ وَإِلَى الرَّسُولِ قَالُوا حَسْبُنَا مَا وَجَدْنَا عَلَيْهِ ءَابَآءَنَآ ۚ أَوَلَوْ كَانَ ءَابَآؤُهُمْ لَا يَعْلَمُونَ شَيْـًٔا وَلَا يَهْتَدُونَ

আর যখন তাদেরকে বলা হয়, ‘আল্লাহ যা নাযিল করেছেন তার দিকে ও রাসূলের দিকে আস’, তারা বলে, ‘আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের যার উপর পেয়েছি তাই আমাদের জন্য যথেষ্ট।’ যদিও তাদের পিতৃপুরুষরা কিছুই জানত না এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত ছিল না তবুও? (সূরা-মায়িদাহ:১০৪)

(*) قَالُوٓا أَجِئْتَنَا لِتَلْفِتَنَا عَمَّا وَجَدْنَا عَلَيْهِ ءَابَآءَنَا وَتَكُونَ لَكُمَا الْكِبْرِيَآءُ فِى الْأَرْضِ وَمَا نَحْنُ لَكُمَا بِمُؤْمِنِينَ

তারা বলল, ‘তুমি কি এসেছ আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদেরকে যাতে পেয়েছি তা থেকে আমাদেরকে ফেরাতে এবং যেন যমীনে তোমাদের প্রতিপত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়? আর আমরা তো তোমাদের প্রতি বিশ্বাসী নই’। (সূরা-ইউনুস:৭৮)

(*) قَالُوا يٰصٰلِحُ قَدْ كُنتَ فِينَا مَرْجُوًّا قَبْلَ هٰذَآ ۖ أَتَنْهٰىنَآ أَن نَّعْبُدَ مَا يَعْبُدُ ءَابَآؤُنَا وَإِنَّنَا لَفِى شَكٍّ مِّمَّا تَدْعُونَآ إِلَيْهِ مُرِيبٍ

তারা বলল, ‘হে সালিহ, তুমি তো ইতঃপূর্বে আমাদের মধ্যে ছিলে প্রত্যাশিত। তুমি কি আমাদেরকে নিষেধ করছ তাদের ইবাদাত করতে আমাদের পিতৃপুরুষরা যাদের ইবাদাত করত? তুমি আমাদেরকে যার দিকে আহবান করছ, সে ব্যাপারে নিশ্চয় আমরা ঘোর সন্দেহের মধ্যে আছি’। (সূরা-হুদ:৬২)

(*) قَالَتْ رُسُلُهُمْ أَفِى اللَّهِ شَكٌّ فَاطِرِ السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ ۖ يَدْعُوكُمْ لِيَغْفِرَ لَكُم مِّن ذُنُوبِكُمْ وَيُؤَخِّرَكُمْ إِلٰىٓ أَجَلٍ مُّسَمًّى ۚ قَالُوٓا إِنْ أَنتُمْ إِلَّا بَشَرٌ مِّثْلُنَا تُرِيدُونَ أَن تَصُدُّونَا عَمَّا كَانَ يَعْبُدُ ءَابَآؤُنَا فَأْتُونَا بِسُلْطٰنٍ مُّبِينٍ

তাদের রাসূলগণ বলেছিল, ‘আল্লাহর ব্যাপারেও কি সন্দেহ, যিনি আসমানসমূহ ও যমীনের সৃষ্টিকর্তা? তিনি তোমাদেরকে আহবান করেন যাতে তিনি তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করেন এবং তিনি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তোমাদেরকে অবকাশ দেন’। তারা বলল, ‘তোমরা তো আমাদের মতই মানুষ, ‘তোমরা আমাদেরকে আমাদের পিতৃপুরুষরা যার ইবাদাত করত, তা থেকে ফিরাতে চাও। অতএব তোমরা আমাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে আস’। (সূরা-ইব্রাহীম:১০)

(*) قَالُوا وَجَدْنَآ ءَابَآءَنَا لَهَا عٰبِدِينَ

তারা বলল, ‘আমরা আমাদের পূর্বপুরুষদেরকে এদের পূজা করতে দেখেছি’। (সূরা-আম্বিয়া:৫৩)

(*) قَالُوا بَلْ وَجَدْنَآ ءَابَآءَنَا كَذٰلِكَ يَفْعَلُونَ

তারা বলল, ‘বরং আমরা আমাদের পিতৃপুরুষদের পেয়েছি, তারা এরূপই করত’। (সূরা-আশ-শু'আরা:৭৪)

(*) قٰلَ أَوَلَوْ جِئْتُكُم بِأَهْدٰى مِمَّا وَجَدتُّمْ عَلَيْهِ ءَابَآءَكُمْ ۖ قَالُوٓا إِنَّا بِمَآ أُرْسِلْتُم بِهِۦ كٰفِرُونَ

তখন সে (সতর্ককারী) বলেছে, ‘তোমরা তোমাদের পিতৃপুরুষদেরকে যে মতাদর্শে পেয়েছ, আমি যদি তোমাদের কাছে তার চেয়ে উৎকৃষ্ট পথে নিয়ে আসি তবুও কি’? (তোমরা তাদের অনুসরণ করবে?) তারা বলেছে, ‘নিশ্চয় তোমাদেরকে যা দিয়ে পাঠানো হয়েছে আমরা তার অস্বীকারকারী’। (সূরা-যুখরুফ:২৪)

(*) وَقَالُوا لَوْ شَآءَ الرَّحْمٰنُ مَا عَبَدْنٰهُم ۗ مَّا لَهُم بِذٰلِكَ مِنْ عِلْمٍ ۖ إِنْ هُمْ إِلَّا يَخْرُصُونَ

তারা আর বলে, ‘পরম করুণাময় আল্লাহ ইচ্ছা করলে আমরা এদের ইবাদাত করতাম না’, এ বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নেই। তারা শুধু মনগড়া কথা বলছে। (সূরা-যুখরুফ:২০)

(*) قَالَ لَقَدْ كُنتُمْ أَنتُمْ وَءَابَآؤُكُمْ فِى ضَلٰلٍ مُّبِينٍ

সে বলল, ‘তোমরা নিজেরা এবং তোমাদের পূর্বপুরুষরা সবাই রয়েছ স্পষ্ট বিভ্রান্তিতে’। (সূরা-আম্বিয়া:৫৪)



(4)
===================================
(আল্লাহ কর্তক পরীক্ষা)


মানবজাতিকে আল্লাহ তা'আলা কোনোরূপ পরীক্ষা না নিয়ে ছেড়ে দিবে না ৷ অতএব প্রত্যেকে পরিক্ষার সম্মুখীন হবে ৷ এই বিষয়ে সতর্কতামূলক আল্লাহ বলেন—

(*) أَحَسِبَ النَّاسُ أَن يُتْرَكُوٓا أَن يَقُولُوٓا ءَامَنَّا وَهُمْ لَا يُفْتَنُونَ

মানুষ কি মনে করে যে, ‘আমরা ঈমান এনেছি’ বললেই তাদের ছেড়ে দেয়া হবে, আর তাদের পরীক্ষা করা হবে না? (সূরা-আনকাবুত:০২)

(*) وَلَقَدْ فَتَنَّا الَّذِينَ مِن قَبْلِهِمْ ۖ فَلَيَعْلَمَنَّ اللَّهُ الَّذِينَ صَدَقُوا وَلَيَعْلَمَنَّ الْكٰذِبِينَ

আর আমি তো তাদের পূর্ববর্তীদের পরীক্ষা করেছি। ফলে আল্লাহ অবশ্যই জেনে নেবেন, কারা সত্য বলে এবং অবশ্যই তিনি জেনে নেবেন, কারা মিথ্যাবাদী। (সূরা-আনকাবুত:০৩)

(*) وَلَنَبْلُوَنَّكُم بِشَىْءٍ مِّنَ الْخَوْفِ وَالْجُوعِ وَنَقْصٍ مِّنَ الْأَمْوٰلِ وَالْأَنفُسِ وَالثَّمَرٰتِ ۗ وَبَشِّرِ الصّٰبِرِينَ

আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে। আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও। (সূরা-বাকারাহ:১৫৫)

(*) وَمَن لَّمْ يَحْكُم بِمَآ أَنزَلَ اللَّهُ فَأُولٰٓئِكَ هُمُ الْكٰفِرُونَ

আর যারা আল্লাহ যা নাযিল করেছেন, তার মাধ্যমে ফয়সালা করে না, তারাই কাফির। (সূরা-মায়িদাহ:৪৪)

(*) فَنَذَرُ الَّذِينَ لَا يَرْجُونَ لِقَآءَنَا فِى طُغْيٰنِهِمْ يَعْمَهُونَ

সুতরাং যারা আমার সাক্ষাতের আশা রাখে না, আমি তাদেরকে তাদের অবাধ্যতায় দিশেহারা হয়ে ঘুরতে ছেড়ে দেই। (সূরা-ইউনুস:১১)

(*) إِنَّا جَعَلْنَا مَا عَلَى الْأَرْضِ زِينَةً لَّهَا لِنَبْلُوَهُمْ أَيُّهُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا

নিশ্চয় যমীনের উপর যা রয়েছে, তা আমি শোভা করেছি তার জন্য, যাতে তাদেরকে পরীক্ষা করি যে, কর্মে তাদের মধ্যে কে উত্তম। (সূরা-কাহফ:০৭)

(*) الَّذِى خَلَقَ الْمَوْتَ وَالْحَيٰوةَ لِيَبْلُوَكُمْ أَيُّكُمْ أَحْسَنُ عَمَلًا ۚ وَهُوَ الْعَزِيزُ الْغَفُورُ

যিনি মৃত্যু ও জীবন সৃষ্টি করেছেন যাতে তিনি তোমাদেরকে পরীক্ষা করতে পারেন যে, কে তোমাদের মধ্যে আমলের দিক থেকে উত্তম। আর তিনি মহাপরাক্রমশালী, অতিশয় ক্ষমাশীল। (সূরা-মূলক:০২)

(*) ثُمَّ لَتُسْـَٔلُنَّ يَوْمَئِذٍ عَنِ النَّعِيمِ

তারপর সেদিন অবশ্যই তোমরা নিআমত সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে। (সূরা-তাকাছুর:০৮)

(*) وَهُوَ الَّذِى جَعَلَكُمْ خَلٰٓئِفَ الْأَرْضِ وَرَفَعَ بَعْضَكُمْ فَوْقَ بَعْضٍ دَرَجٰتٍ لِّيَبْلُوَكُمْ فِى مَآ ءَاتٰىكُمْ ۗ إِنَّ رَبَّكَ سَرِيعُ الْعِقَابِ وَإِنَّهُۥ لَغَفُورٌ رَّحِيمٌۢ

আর তিনি সে সত্তা, যিনি তোমাদেরকে যমীনের খলীফা বানিয়েছেন এবং তোমাদের কতককে কতকের উপর মর্যাদা দিয়েছেন, যাতে তিনি তোমাদেরকে যা প্রদান করেছেন, তাতে তোমাদেরকে পরীক্ষা করেন। নিশ্চয় তোমার রব দ্রুত শাস্তিদানকারী এবং নিশ্চয় তিনি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা-আন'আম:১৬৫)

(*) كُلُّ نَفْسٍ ذَآئِقَةُ الْمَوْتِ ۗ وَنَبْلُوكُم بِالشَّرِّ وَالْخَيْرِ فِتْنَةً ۖ وَإِلَيْنَا تُرْجَعُونَ

প্রতিটি প্রাণ মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে; আর ভাল ও মন্দ দ্বারা আমি তোমাদেরকে পরীক্ষা করে থাকি এবং আমার কাছেই তোমাদেরকে ফিরে আসতে হবে। (সূরা-আম্বিয়া:৩৫)

(*) فَأَمَّا الْإِنسٰنُ إِذَا مَا ابْتَلٰىهُ رَبُّهُۥ فَأَكْرَمَهُۥ وَنَعَّمَهُۥ فَيَقُولُ رَبِّىٓ أَكْرَمَنِ

আর মানুষ তো এমন যে, যখন তার রব তাকে পরীক্ষা করেন, অতঃপর তাকে সম্মান দান করেন এবং অনুগ্রহ প্রদান করেন, তখন সে বলে, ‘আমার রব আমাকে সম্মানিত করেছেন। (সূরা-ফাজর:১৫)

(*) وَأَمَّآ إِذَا مَا ابْتَلٰىهُ فَقَدَرَ عَلَيْهِ رِزْقَهُۥ فَيَقُولُ رَبِّىٓ أَهٰنَنِ

আর যখন তিনি তাকে পরীক্ষা করেন এবং তার উপর তার রিয্ককে সঙ্কুচিত করে দেন, তখন সে বলে, ‘আমার রব আমাকে অপমানিত করেছেন’। (সূরা-ফাজর:১৬)



পরিশেষ কথা:
==========


প্রথমত, মহান আল্লাহ তা'আলা মানবজাতির জন্য স্পষ্ট দিকনির্দেশনামূলক একটি পবিত্র কালাম নাযিল করেছেন ৷ এতে সবকিছুর সমাধান দেওয়া আছে ৷ তাই এর বাহিরে কোনো বানানো রীতি গ্রহণযোগ্য হবে না ৷

দ্বিতীয়ত, ইসলামে পরিপূর্ণভাবে দাখিল হতে হবে ৷ একমাত্র কুরআন আর হাদীস অনুসরণযোগ্য ৷ শয়তানের পথ অনুসরণ করা যাবে না ৷

তৃতীয়ত, কুরআন-হাদীসকে বাদ দিয়ে বাপ-দাদাদের কিচ্ছা-কাহিনী ও তাদের অনৈসলামিক কর্ম কোনোরূপ গ্রহণযোগ্য হবে না ৷

চতুর্থত, আমরা যাই করিনা কেন আল্লাহ আমাদের বিভিন্ন উপায়ে পরীক্ষা করবেন ৷ তিনি পরীক্ষা না করে কাউকে ছেড়ে দিবেন না ৷ সত্যিকার অর্থে কে মু'মিন তা পরীক্ষিত হবে ৷ সো, প্রতিটি আমল কুরআন-হাদীস কর্তৃক হতে হবে ৷

Comments