"দুঃখ যন্ত্রণায় করণীয়"
জীবন মানেই একটা সুখ-দুঃখ মিশ্রিত প্লাটফর্ম ৷ এই প্লাটফর্মে দুঃখ-যন্ত্রণা লেগে থাকবেই ৷ সবসময় সুখে থাকার নাম হল জান্নাত তা এই জীবনে পাওয়া কখনোই সম্ভব নয় ৷ সুতরাং, যখন সামনে দুঃখ-যন্ত্রণার পর্দা উন্মোচন হবে তখন একটু রিল্যাক্স হোন ৷ নিজেকে সামলিয়ে একটু স্থির হোন এবং নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করুন ৷ অবশেষে নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করার চেষ্টা করুন ৷ ইনশা'আল্লাহ! আপনার হৃদয় প্রশান্ত থাকবে কঠিন মুহূর্তেও ৷
দুঃখ-যন্ত্রণার সময় প্রথমে যে কাজটি করা উচিত তা হল ধৈর্য ধারণ করা ৷ জীবনে বাধা-বিপত্তি আসবে, হতাশার জাল চতুর্দিকে ছেয়ে যাবে, মাথার উপর আশ্রয়ের ছায়াটুকুও উঠে যাবে ৷ এমন পরিস্থিতিতে আপনি কখনো হাল ছাড়বেন না; বরং সে সময় ধৈর্যের পরিচয় দিন ৷ মহান আল্লাহ তা'য়ালা ইরশাদ করেন, 'যে সালাত কায়েম করে, যাকাত দেয় এবং যারা অঙ্গীকার করে তা পূর্ণ করে, যারা ধৈর্যধারণ করে কষ্ট ও দুর্দশায় ও যুদ্ধের সময়ে। তারাই সত্যবাদী এবং তারাই মুত্তাকী ৷' (সূরা: বাকারা: ১৭৭)
তাছাড়া, যারা ধৈর্যধারণ করে তারাই আল্লাহর সাহায্য প্রাপ্ত হয় ৷ রাব্বুল আলামিন বলেন, 'হে মুমিনগণ, ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও ৷ নিশ্চয় আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন ৷' (সূরা: বাকারা: ১৫৩)
অথএব, দূর্দশাগ্রস্থ ব্যক্তিদের অবশ্যই উত্তমরূপে ধৈর্যধারণ করা একান্ত অপরিহার্য ৷ কেননা সফলতা আসে তার সঠিক সময়ে যদি তাতে অবিচল থাকা যায় ৷ অধৈর্যের কখনো ফল মিলেনা; বরং আরো ক্ষতিগ্রস্থের দিকে অগ্রসর হয় ৷ এ জন্য আল্লাহ বলেন, 'অতএব তুমি উত্তমরূপে ধৈর্যধারণ কর। (সূরা-মাআরিজ: ৫) অর্থাৎ, ধৈর্যধারণ করার মত কর ৷ তবেই সফলতার পথ খুঁজে পাবে, দুঃখ-যন্ত্রণার পথ থেকে পরিত্রাণ পাবে ৷ এখন কিভাবে ধৈর্য ধরবেন তা জানাও আপনার জন্য জরুরি ৷ কেননা ধৈর্যধারণ করার অর্থ এই নয় যে, আপনি বসে থাকবেন ৷ বরং আপনাকে এর থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার পথ খুঁজে বের করতে হবে ৷ সুতরাং, কি করতে হবে, কোথায় যেতে হবে তার জন্য পরামর্শ নিন এবং সমাধানের চেষ্টা করুন ৷
ধৈর্যের পরিচয় দেওয়ার পাশাপাশি আপনি চিন্তা করতে পারেন যে, এমন পরিস্থিতি আপনার জন্য পরীক্ষার কারণ ৷ কেননা মহান আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর বান্দাদের পরীক্ষা নিয়ে থাকেন বিভিন্ন উপায়ে ৷ হয়তো প্রতিটি দুঃখ-যন্ত্রণাও পরীক্ষার কারণ হয়ে থাকে ৷ অথবা তা আপনার গোনাহ মাপেরও অন্যতম কারণও হতে পারে ৷ সুতরাং, আল্লাহর বাণী স্মরণ রাখা প্রয়োজন ৷ আল্লাহ বলেন, 'আর আমি অবশ্যই তোমাদেরকে পরীক্ষা করব কিছু ভয়, ক্ষুধা এবং জান-মাল ও ফল-ফলাদির স্বল্পতার মাধ্যমে ৷ আর তুমি ধৈর্যশীলদের সুসংবাদ দাও ৷ (সূরা: বাকারা: ১৫৫)
অন্য আয়াতে ইরশাদ করেন, 'অবশ্যই তোমাদেরকে তোমাদের ধন-সম্পদ ও তোমাদের নিজ জীবন সম্পর্কে পরীক্ষা করা হবে ৷' (সূরা: ইমরান: ১৮৬) সর্বোপরি, আপনার দুঃখ-যন্ত্রণা পরীক্ষার কারণ হতে পারে যে, তাও স্মরণ রাখতে হবে ৷ কেননা পরীক্ষায় আপনাকে অবশ্যই সাফল্যের সাথে উত্তীর্ণ হতে হবে ৷ তবেই পরিত্রাণ পাবেন ৷
আমরা অনেকেই নিজেদের দুঃসময়ে পরিত্রাণের সব প্রচেষ্টা চালিয়ে যায় ৷ কিন্তু, ফলাফলের কোনো ছায়াও দেখা যায় না; বরং মনে হয় দুঃখ-যন্ত্রণা আরো দিনদিন বেড়ে যাচ্ছে ৷ এর প্রধান কারণ হল নিজেদের পাপ ৷ পাপের ফলে এমন পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে ৷ হতে পারে আল্লাহ আপনাকে পাপ থেকে বের হওয়ার কারণ হিসেবে আপনাকে দুঃখের মধ্যে নিপতিত করেছেন ৷ সুতরাং, এমন পরিস্থিতিতে ধৈর্যের পাশাপাশি নিজের দ্বারা কোনো পাপ সংঘটিত হচ্ছে কিনা তা সনাক্ত করতে হবে এবং তা পরিহার করতে হবে ৷ অবশেষে, অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে দুর্দিন থেকে রেহায় পাওয়ার দু'য়া করতে হবে ৷ আল্লাহ তা'য়ালা বলেন, 'কাজেই তুমি ধৈর্য ধারণ কর, নিশ্চয় আল্লাহর ওয়াদা সত্য ৷ আর তুমি তোমার ত্রুটির জন্য ক্ষমা প্রার্থনা কর ৷' (সূরা-মু'মিন: ৫৫)
এসবকিছুর মাঝেও আপনি শান্তি পাচ্ছেন না, কোনো কিছু ভালো লাগছে না ৷ মনে হচ্ছে— সবকিছু যেন অশান্তিতে ঘেরা ৷ তাহলে আপনি আল্লাহর এই বাণীগুলোর দিকে একবার চোখ রাখুন— আল্লাহ বলেন, 'নিশ্চয় কষ্টের সাথেই রয়েছে সুখ ৷' (সূরা-ইনশিরাহ: ৬) জ্ঞানীদের জন্য রয়েছে এই আয়াতে আশার বাণী ৷ প্রশান্তি ফিরে পাবার এক মহিমান্বিত অনুপ্রেরণা ৷
হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, 'হযরত আনাস বিন মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘বিপদ যত তীব্র হবে, প্রতিদানও অনুরূপ বিরাট হবে ৷ নিশ্চয়ই আল্লাহ কোনো জাতিকে ভালোবাসলে তাদের পরীক্ষা করেন ৷ যারা তাতে সন্তুষ্ট থাকে তাদের জন্য আছে আল্লাহর সন্তুষ্টি ৷ আর যারা তাতে অসন্তুষ্ট হয়, তাদের জন্য আছে অসন্তুষ্টি ।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ৪০৩১)
সর্বোপরি, আপনাকে বিশ্বাস রাখতে হবে যে, আপনার সামনে উপস্থিত হওয়া সবকিছু আপনার সাধ্যের ভিতরে রয়েছে ৷ হয়তো তা সমাধানে একটু বেশি শ্রমের প্রয়োজন পড়বে ৷ তবে এই বিশ্বাস অন্তরে শতভাগ লালন করতে হবে ৷ কেননা আল্লাহ তা'য়ালা তাঁর বান্দাদের পূর্ণ আশ্বাস দিয়ে বলেন, আমি কোন ব্যক্তিকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব অর্পণ করি না ৷ (সূরা-আ'রাফ: ৪২; সূরা-আন'আম: ১৫২; সূরা-বাকারা: ২৮৬; সূরা-মু'মিনুন: ৬২)
অতএব, সামনে উপস্থিত হওয়া প্রতিটি দুঃখ-যন্ত্রণার সময় বিশেষ এই পদক্ষেপগুলো মেনে চলাতে আশা করা যায় যে, কঠিন মুহূর্তেও প্রশান্তির বাতাস দেহে দোল খাবে ৷ ইনশা'আল্লাহ!
লেখক: আবদুর রশীদ
Comments
Post a Comment