কোচিং সেন্টারে অনৈতিকতা

 "কোচিং সেন্টারে অনৈতিকতা"


প্রতিনিয়ত মানুষ উন্নত সভ্যতা গড়ে তুলতে জ্ঞানের দিকে ধাবিত হয়ে নিজেদের আলোকিত করার মহা প্রচেষ্টায় রত ৷ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাত্রা বেড়ে চলছে এবং সাথে শিক্ষার অগ্রযাত্রাও হচ্ছে ভালো ৷ এ ছাড়াও বিজ্ঞান-প্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে শিক্ষার হার আরো এগিয়ে ৷ তাই, একটি উন্নত লক্ষ্যের পথ ধরে একাডেমিক অধ্যয়ন শেষ করার অভিপ্রায়ে প্রত্যেক শিক্ষার্থী শরণাপন্ন হয় প্রাইভেট টিচার, কোচিং সেন্টার ও প্রশিক্ষণ কোর্সের ৷ সেই ধারাবাহিকতায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি কোচিং সেন্টার অনেকটাই মূখ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে শিক্ষার্থীদের নিকট ৷ কিন্তু, কোচিং সেন্টারে যেমন ভালো ফল রয়েছে, তেমনি এতে অনৈতিকতারও পরশ রয়েছে ৷ যা শিক্ষার্থীর অজ্ঞতাকে হাতিয়ার বানিয়েছে অনৈতিক কিছু কোচিং সেন্টার ৷ বাস্তবতার উপর ভিত্তি করে নিজের অভিজ্ঞতায় লব্ধ কিছু তথ্য শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য শেয়ার করছি ৷ পাশাপাশি অনৈতিকতা পরিহারের বার্তা প্রদান করে সব শিক্ষকদের নৈতিকতার মানদণ্ডে উপনীত হওয়ার জন্য আন্তরিকভাবে অনুরোধ করছি ৷

আলহামদুলিল্লাহ, নিজের স্বল্প জ্ঞানের পরিধির ভিতর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টারে ক্লাস নেওয়ার কিছুটা সুযোগ হয়েছে ৷ যার ফলে কমবেশি অভিজ্ঞতাও হয়েছে ৷ কোচিং সেন্টারে দেখতে পেয়েছি যে, একটি সাবজেক্টের পরিক্ষার প্রস্তুতিমূলক পড়াগুলো শেষ করতে ২-৩ মাস সময় নেই ৷ শিক্ষার্থীদের থেকে বিভিন্ন মূল্যায়ণ টেস্ট ইত্যাদি সব মিলিয়ে ৪-৫ মাসে সব ক্লিয়ার করা যায় অনায়াসে ৷ কিন্তু, কোচিং-এ শিক্ষকগণ শিক্ষার্থীদের দুই মাসের পড়া ছয় মাস করে পড়ান যাতে পুরো বছর শিক্ষার্থীদেরকে তাদের অধীনে রাখা যায় ৷ যার ফলাফল হল কোচিং-এ প্রতি মাসে একটি লাভবান আয় যার ব্যপ্তিকাল হয় পুরো একটি বছর ৷ কিন্তু, প্রশ্ন হল— শিক্ষার্থী কেন ছয় মাসে সম্পন্ন হওয়া পড়ার অর্থ ডাবল ছয় মাসের অর্থ সম্পন্ন করবে? এটা কি অনৈতিকতা এবং শিক্ষার্থীদের উপর জুলুম নয়?

জুলুমের অবস্থান নেক সুরতে হোক কিংবা বদ সুরতে হোক, তা কেবল জুলুমই বটে ৷ হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, 'জুলুম কিয়ামতের দিন ভীষণ অন্ধকার হয়ে দেখা দিবে ৷' ( আল জামি বাইনাস সহিহাইন, হাদিস নং-১৩৮৭) আরো ইরশাদ হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি তার ভাইয়ের ওপর জুলুম করেছে সে যেন তার কাছ থেকে ক্ষমা নিয়ে নেয়, তার ভাইয়ের পক্ষে তার আমলনামা থেকে পুণ্য কেটে নেওয়ার আগেই । কারণ সেখানে কোনো দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) বা দিরহাম (রৌপ্যমুদ্রা) পাওয়া যাবে না । তার কাছে যদি পুণ্য না থাকে তবে তার (মজলুম) ভাইয়ের গুনাহ তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে ।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস নং-৬৫৩৪)

শিক্ষার্থীদের উপর জুলুম করা শিক্ষকগণ কখনো কি শিক্ষার্থীদের নিকট ক্ষমা প্রার্থী হয়? ক্লাসে এক মিনিট বা পাঁচ মিনিট দেরিতে প্রবেশ করায় কখনো দুঃখবোধ প্রকাশ করে? শিক্ষার্থীদের নিকট শিক্ষকদের এমন আচরণের জন্য অবশ্যই ক্ষমা প্রার্থী হওয়া উচিত ৷ না হয় এই হকগুলো শিক্ষকদের ঘাড়ে রয়ে যাবে ৷ এছাড়া আরো কিছু সমস্যা রয়েছে ৷ যেমন- কোচিং সেন্টারের উপর কোচিং সেন্টার প্রতিষ্ঠা ৷ এটা কেবল ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে ৷ ভালো সার্ভিস না দেওয়া; এমনকি ভুল পদ্ধতিতেও শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে এমন নজিরও দৃষ্টিলব্ধ হয়েছে ৷ এর বাইরে ছেলে-মেয়েদের ফ্রি মিক্সিং-তো আছেই ৷ আর বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের কিছু অদূরদর্শিতার কারণে অনৈতিকতার সুযোগ সৃষ্টি হয় ৷

অতএব, শিক্ষার্থীদের অজান্তে যেন তাদের হক নষ্ট না হয় এবং তাদের পারিবারিক অর্থের সঠিক মূল্যায়ণ যেন যথাযত করা হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা অপরিহার্য ৷ তাই, এর জন্য প্রতিটি শিক্ষা কেন্দ্রকে নৈতিকতার মানদণ্ডে উপনীত হয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য উপকারি হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করা উচিত ৷

লেখক: আবদুর রশীদ

Comments